গোপালগঞ্জে নিরীহ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মী গ্রেপ্তার না করার আহ্বান বিএনপির

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নেতাকর্মী এবং সাধারণ নিরীহ জনগণকে গ্রেপ্তার না করার আহ্বান জানিয়েছে।
একইসঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলায় যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, তাদের ভিডিও ও স্থিরচিত্র দেখে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মেসবাহ এই বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র পাঠান। চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এবং গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবর।
চিঠিতে অ্যাডভোকেট মেসবাহ উল্লেখ করেন, তিনি গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানি) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিগত ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার কারণে এলাকাটি এখন আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদ সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় কিছু মানুষ অবৈধভাবে লাভবান হলেও সাধারণ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপি আয়োজিত এক কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে মঞ্চ ভাংচুরসহ নানা বেআইনি কাজ করে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
মেসবাহ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জের ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানায়। তবে তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালনার সময় সাধারণ নিরীহ জনগণকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। মুকসুদপুর-কাশিয়ানি এলাকা থেকে এমন অনেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং হামলার ঘটনার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট নন। এদের মধ্যে রয়েছে দোকানদার, রিকশাচালক, কৃষক ও দিনমজুর।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলের ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মী-সমর্থকদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার এবং হয়রানি চালানো হচ্ছে। এমনকি কিছু কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে পুলিশের সহযোগিতায় নিরীহ মানুষদের গ্রেপ্তার করাচ্ছে।
জয়নুল আবেদীন মেসবাহ আরও বলেন, “গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই নিরীহ এবং তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।”
তিনি অনুরোধ জানান, গ্রেপ্তারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন রাজনৈতিক দলের পরিচয় নিশ্চিত করেই সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিরীহ মানুষদের যেন হয়রানির শিকার না হতে হয়। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, এনসিপির ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শনিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ সময় বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
