সাঈদ খোকনের অভিযোগের পর যা বললেন মেয়র তাপস

| আপডেট :  ২৯ জুন ২০২১, ০৫:১১  | প্রকাশিত :  ২৯ জুন ২০২১, ০৫:১১

দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন, তার মা ফাতেমা হানিফ, স্ত্রী ফারহানা আলম ও বোন শাহানা হানিফের আটটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এদিকে আদালতের এমন আদেশের জন্য বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে দুষছেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। আজ মঙ্গলবার (২৯ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন খোকন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আজ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন। এরপরই গণমাধ্যম থেকে ডিএসসিসির বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগের বরাতে বলা হয়েছে, বিষয়টি মহামান্য আদালত ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংশ্লিষ্ট। বিচারাধীন কোনো বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস কোনো ধরনের বক্তব্য বা প্রতিউত্তর দিতে নিরুৎসুক।

এদিকে আজ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তাপসকে লক্ষ্য করে খোকন বলেন, ‘নগর পরিচালনা করতে পারে না। আর বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখো? আরে বড় হওয়ার পথে সাঈদ খোকন বাঁধা নাকি? তুমি বড় হও তাতে আমার কী? আমাকে মেরে বড় হইতে হইব নাকি? যে দায়িত্ব পাইছো ওইটা মিয়া পালন করো, তারপর বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখো।’

এসময় তাপসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাপস কতটুকু ভোটে নির্বাচিত হয়েছে এই শহরের মানুষ জানে। কত পার্সেন্ট ভোট পেয়েছে তাও মানুষ জানে। যাই হোক ক্ষমতায় আছেন, মানুষের কাজ করেন। ব্যর্থতা ঢাকার জন্য আরেকজনের মাথায় কালিমা লেপন করে দেবেন, ঢাকাবাসী এটা মেনে নেবে না।’

এসময় উত্তেজিত কণ্ঠে খোকন বলেন, ‘আপনার ব্যর্থতার দায় ঢাকার জন্য আর মানুষ পান নাই? বারবার শুধু আমার উপরই? কেন? কেন? রক্ত দিয়েছে আমার বাবা। জীবন দিয়েছি আমরা। এই সংগঠনের জন্য। এই শহরের মানুষের জন্য। এই দেশের মানুষের জন্য। অপমান হওয়ার জন্য? আইনী মোকাবিলা করবো। সাথে সাথে ঢাকাবাসীকে নিয়ে প্রয়োজন হলে আরেকবার সংগ্রাম হবে।’

সিটি করপোরেশনের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতা চারিদিক। আমি লাশ দাফন ফ্রি করে দিয়েছিলাম। আমার ঢাকাবাসী দাফনের পয়সাটুকু দিতে পারে না। গরিব-দুঃখী মানুষ। হঠাৎ করে মরে গেলে একটা দাফন-কাফন করতে গেলে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা লাগে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে এই শহরে মোড়ে মোড়ে একটা ব্যাগ নিয়ে চাঁদা তোলা শুরু করে। একটা স্লিপ দিয়ে দেয়। দেয় কি দেয় না বলেন? আমি কী বলবো? আরে মানুষের কথা শোনেন। আমি লক্ষ লক্ষ ব্যানার, ফেস্টুন ফেলে দিয়েছিলাম। পরিষ্কার করেছি। আজ সিটি করপোরেশন তার নিজের নামে ব্যানার ফেস্টুন লাগায়।’

এসময় দুদককে অনুরোধ করে খোকন বলেন, ‘আমি দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনুরোধ করবো আমার জব্দকৃত অ্যাকাউন্ট সচল করে দিয়ে আমাকে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা পরিচালনা করার সুযোগ করে দিবেন। যেটা আমার মৌলিক, আমার পরিবারের মৌলিক এবং সাংবিধানিক অধিকার। তদন্ত করতে আমার কিংবা আমার পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করতেই পারে। কিন্তু কারও প্ররোচণায় কোনো দলাদলিতে নিজেকে দুর্নীতি দমন কমিশন জড়াবে একজন নাগরিক হিসেবে আমি এটা প্রত্যাশা করি না।’

সাবেক মেয়র বলেন, ‘আমি কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা একজন নাগরিক হিসেবে দেখতে চাই। এই শহরে যেমন লক্ষ নাগরিকের মতো আমিও একজন সাধারণ নাগরিক। একজন সাধারণ নাগরিকের যে প্রাপ্ত অধিকার রয়েছে আমি সেই প্রাপ্ত অধিকারটুকু ফিরে পেতে চাই।’

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত