মেয়র মামদানির ১০০ দিন: আর্থিক সংকটে ফুটল প্রতিশ্রুতি

| আপডেট :  ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৪  | প্রকাশিত :  ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৪

প্রার্থী জোহারান মামদানি হয়তো মেয়র জোহারান মামদানিকে চিনতেই পারবেন না। নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে মামদানির ১০০ দিনের পর্যালোচনা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছে মার্কিন সাময়িকী পলিটিকো।

কারণ নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে পুলিশ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ এমন এক মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন মামদানি, যার সঙ্গে বামপন্থিদের বিরোধ প্রকাশ্য। এ ছাড়া মেয়র পদে আসীন হওয়ার পর দীর্ঘদিনের সরকারি কর্মীদের দ্বারাই নিজেকে ঘিরে রেখেছেন মামদানি। তার রাজনীতি আর সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে এসব কর্মীর সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই।

এদিকে, নতুন সরকারি কর্মসূচি সম্প্রসার করতে গিয়ে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বেশ কয়েকটি থেকে সরে এসেছেন মামদানি। একই সঙ্গে তিনি মধ্যবিত্তের ওপর একটি পশ্চাদমুখী কর প্রস্তাব করেছেন।

তবে শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং এক প্রজন্মের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ এই নেতা কিছু বড় সাফল্যও অর্জন করেছেন। যেমন দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র আট দিনের মাথায় মামদানি তার অন্যতম প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘সর্বজনীন চাইল্ড কেয়ার’ বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। নিউইয়র্কে একটি ঐতিহাসিক তুষারঝড়ের ধাক্কা সফলভাবে সামাল দিয়েছেন।

এ ছাড়া রাজনৈতিক কৌশলে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও একপ্রকার কাবু করেছেন। কারণ মেয়র নির্বাচনের আগে মামদানির ইস্যুতে অনেক হুমকি-ধমকি দিলেও পরে আর সেসব মনে রাখেননি ট্রাম্প।

পলিটিকোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেছেন, ‘এই সময়টায় আমরা শহরবাসীকে আগামী চার বছর কেমন হবে তার একটি ঝলক দেখাতে চেয়েছি। আমরা উচ্চাভিলাষী, নির্ভীক এবং নিরলস থাকতে চাই।’

যেকোনও প্রশাসনের প্রথম তিন মাস সাধারণত মিশ্র অভিজ্ঞতার হয়। মামদানির ক্ষেত্রেও নীতিগত ঘোষণা ছাড়াও জরুরি পরিস্থিতি, ট্র্যাজেডি, কেলেঙ্কারি এবং যোগাযোগগত ভুলত্রুটি দেখা গেছে।

জানুয়ারিতে শপথ নেয়ার সময়কার জোরালো ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাবমূর্তি ঝেড়ে এখনকার মামদানি বেশ পরিণত। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে নিজের আদর্শ ধরে রাখলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সমঝোতা ও মধ্যপন্থাও গ্রহণ করছেন।

তবে ক্ষমতায় বসার পর কঠিন সিদ্ধান্তগুলো তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে কিছুটা ম্লান করেছে। যেমন গত মার্চে সিয়েনা কলেজের এক জরিপে দেখা যায়, মামদানির জনপ্রিয়তা কিছুটা এখন ৬১ শতাংশে নেমেছে। এই সপ্তাহে প্রকাশিত মারিস্ট কলেজের জরিপে তার অ্যাপ্রুভাল রেটিং ৪৮ শতাংশ, যা তার পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসের তুলনায় কম।

নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে ১০০ দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মামদানি বলেন, তার রাজনৈতিক আদর্শ অপরিবর্তিত রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমি এখনও একজন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট এবং সরকার সাধারণ মানুষের জীবন বদলাতে পারে বলে বিশ্বাস করি।’ তবে হাস্যরস করে যোগ করেন, ‘আমি ভাবিনি আবহাওয়া নিয়ে এত ভাবতে হবে।’

মামদানির প্রথম ১০০ দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আর্থিক সংকট। নির্বাচনি প্রচারণায় সাশ্রয়ী জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। যেমন সর্বজনীন চাইল্ড কেয়ার, বিনামূল্যে বাস সার্ভিস এবং সাশ্রয়ী আবাসনে বড় বিনিয়োগ। এর অর্থায়নের জন্য তিনি ধনী ও বড় করপোরেশনের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি দেখতে পান, শহরের আর্থিক অবস্থা প্রত্যাশার চেয়েও খারাপ। আগামী অর্থবছরে ব্যয় আয়ের চেয়ে কয়েক বিলিয়ন ডলার বেশি হবে। এই পরিস্থিতিতে তার প্রশাসন নিম্নআয়ের মানুষের জন্য হাউজিং ভাউচার বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। পাবলিক লাইব্রেরির বাজেটও কমানোর প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে মানবিক সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে ঘোষিত ‘কমিউনিটি সেফটি বিভাগের’ পরিসরও সীমিত করা হয়েছে।

মামদানি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাজেট ঘাটতি, যা এখনও ৫.৪ বিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতি শূন্যে নামাতে ব্যাপক প্রচেষ্টা দরকার।’

সেবা খাতে কাটছাঁট এড়াতে বাজেটের সঞ্চয় ভাঙার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন মামদানি। প্রয়োজনে সম্পত্তি কর বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন। তবে গভর্নর হোচুল তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চলেছেন। এদিকে বাজেট নিয়ে সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিনের সঙ্গেও তার সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, শহর সঠিক পথে রয়েছে বলে মনে করেন অর্ধেকের বেশি মানুষ। তবে তার অ্যাপ্রুভাল রেটিং এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠের নিচে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত