‘অ্যাংরি ট্রাম্প’ ইরানের অবাধ্য নেতাদের বুঝতে কেন হিমশিম খাচ্ছেন

| আপডেট :  ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২০  | প্রকাশিত :  ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২০

 

প্রতিপক্ষকে বুঝে তাদের দুর্বলতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে নিজেকে ওস্তাদ মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এবার ইরানি নেতারা তাঁকে বেশ বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়েছে। তাদের মতিগতি বুঝতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিমশিম খাচ্ছেন। ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেই অভিযোগ তুলেছেন, তেহরান অবিশ্বাস্য রকম দ্বিমুখী আচরণ করছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা শুধু আমাকে রাগিয়ে দেয়।’ ইরানিদের বুঝতে ট্রাম্প যে একাই হিমশিম খাচ্ছেন বিষয়টা এমন নয়। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে তাঁর প্রত্যেক পূর্বসূরিই তেহরানের জটিল ক্ষমতা কাঠামো এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেছেন। বেশিরভাগই ব্যর্থ হয়েছেন।

এর মধ্যে বারাক ওবামা ব্যতিক্রম ছিলেন। প্রায় ২০ মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ওবামা প্রশাসন ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করেছিল। রিপাবলিকান ও কিছু ডেমোক্র্যাটের সমালোচনা সত্ত্বেও ওবামা এটিকে বড় অর্জন বলে মনে করতেন। সমালোচকরা তখন বলেছিলেন, ইরান মধ্যপন্থী হওয়ার ভান করে ওবামাকে ত্রুটিপূর্ণ চুক্তির ফাঁদে ফেলেছে।

আগের প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ইরানের নেতৃত্বকে ট্রাম্প সবচেয়ে কম বুঝতে পারছেন বলে মনে করেন কেনেথ পোলাক। সিআইয়ের সাবেক এই বিশ্লেষক কয়েক দশক ধরে ইরান নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প অনেক দিক দিয়ে আমেরিকার হতাশার প্রতীক। তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। সবচেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু কোনোটাই তাঁকে সফলতা এনে দিতে পারেনি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই এমনভাবে কথা বলেন, যেন বড় ধরনের শক্তি প্রয়োগ করলেই দ্রুত চুক্তি হয়ে যাবে। বিপরীতে ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তারা ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু একইসঙ্গে তারা ট্রাম্পের মূল দাবির বেশিরভাগই নাকচ করে দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ঘৃণার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ব্যবস্থার কেউই বৃহত্তর সমঝোতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

যুদ্ধবিরতি শুরুর পর তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটন মাসের পর মাস আলোচনা করেছে। কিন্তু তা থেকেও ইরানিদের মনোভাব বুঝে উঠতে পারার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ট্রাম্প বিভিন্ন সময় ইরানের শাসক, বিশেষ করে মোজতবা খামেনি ও তাদের সহযোগীদের নিয়ে মূল্যায়ন বদল করেছেন। কখনো তাদেরকে পাগল, নির্বোধ, উন্মাদ; আবার কখনো যুক্তিবাদী ও খুবই চালাক বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বুঝতে কেন ব্যর্থতা?
নীতিনির্ধারণ বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আছেন সুজান ম্যালোনি। তিনি বলছেন, দশকের পর দশক ধরে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা ইরানের আদর্শিক প্রতিশ্রুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কাঠামোকে তেমন একটা গুরুত্ব দেননি।

ম্যালোনির মতে, এই সময়ে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারেননি। অবাক করা বিষয় হলো, কোনো মার্কিন কর্মকর্তাই ইরানের দুই সর্বোচ্চ নেতা (প্রয়াত) রুহুল্লাহ খোমেনি ও আলী খামেনির সঙ্গে দেখা করেননি। বর্তমান নেতা মোজতবার ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে।

ম্যালোনি ব্রুকিংসের পররাষ্ট্রনীতি বিভাগে পরিচালকের দায়িত্বেও আছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ কেবলই ইরানের ধর্মীয় ও সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে দেশটির ভেতর কোনো কার্যকর বিকল্প ক্ষমতা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুরোপুরি গণতান্ত্রিক কাঠামোর নয়। প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কর্তৃত্বের অধীনে কাজ করে। এই ব্যবস্থার মধ্যে থাকা দু-একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এই ব্যক্তিদের প্রতি ওয়াশিংটন অতীতে যেসব আহ্বান জানিয়েছিল, তার বেশিরভাগই হতাশাজনক সাড়া পেয়েছে।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দুই দলের প্রেসিডেন্টদের অধীনেই মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কূটনীতিকের কাজ করেছেন ডেনিস রস। তিনি বলেন, ‘ইরানিরা আমাদের যেভাবে বোঝে, আমরা তাদের সেভাবে বুঝি না।’

(দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের ওয়েব সংস্করণে মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সংক্ষেপে অনুবাদ করা হয়েছে।)

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত