যুক্তরাজ্যে এই প্রথম ডিজেলের দাম লিটারে ২ পাউন্ড ছাড়াল

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো ডিজেলের গড় দাম লিটারপ্রতি ২ পাউন্ড ছাড়িয়েছে। দেশটির মোটরিং সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের গড় দাম ২০০ দশমিক ০১ পেনিতে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে পেট্রোলের দামও বাড়ছে। আরএসির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম এখন লিটারপ্রতি ১৭৪ দশমিক ৭১ পেনি। খবর বিবিসির।
সংগঠনটি বলেছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির গতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এতে গাড়িচালকদের ওপর আরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর আরও বেশি জ্বালানি মজুত বাজারে ছাড়ার জন্য চাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়বে। এতে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন গাড়িচালকদের জন্য দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এর ফলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য বাজারে ডিজেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইউরোপীয় দেশগুলোকে ‘অবিলম্বে’ ডিজেলের মজুত বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার যুক্তি, জ্বালানির দাম বাড়ার পুরো চাপ মার্কিন কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
তবে শুক্রবার (০২ অক্টোবর) ইইউ জানিয়েছে, ইউরোপ তাদের মজুত থেকে আরও ডিজেল বাজারে না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি নিষিদ্ধ করবে; এমন হুমকি তারা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে।
ইইউর এক মুখপাত্র বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো মার্চে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে তৈরি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিছু মজুত বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছিল। তবে যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত থাকায় সব দেশ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন; উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করছে।
সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বৈচিত্র্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল। আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং যুক্তরাজ্যের জ্বালানি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।’
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে ডিজেলের ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ব্যবহৃত ডিজেলের অর্ধেকের বেশি আমদানি করা হয়। আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও কম আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যা দেশটির মোট ডিজেল সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ।
গত সাত মাসে ইরান যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিজেলের সরবরাহ আরও কমেছে। একই সময়ে চীনও পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করেছে।
ডিজেলের উচ্চ দাম সরাসরি গাড়িচালকদের ওপর চাপ তৈরি করলেও এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনের ব্যয়ও বাড়তে পারে।
আরএসি’র সাইমন উইলিয়ামস বলেন, একটি সাধারণ পরিবারের গাড়িতে ডিজেল দিয়ে ট্যাংক পূর্ণ করতে এখন প্রায় ১১০ পাউন্ড খরচ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় এ ব্যয় প্রায় ৩২ পাউন্ড বেশি।
তিনি বলেন, ‘যারা বেশি দূরত্ব গাড়ি চালান যেমন যাত্রী, পণ্য পরিবহন ও ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান, বড় গাড়ির বহর পরিচালনাকারী ব্যবসা থেকে শুরু করে একক উদ্যোক্তা সবার জন্যই এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’
আরএসি জানিয়েছে, একটি সাধারণ পেট্রোলচালিত গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করতে এখন খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৬ দশমিক ০৯ পাউন্ড। ফেব্রুয়ারির তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ০৩ পাউন্ড।
সূত্র : বিবিসি
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
