নেহা বোরার পর ছাড়া পেলেন কেজরিওয়াল-মমতাও

নেহা বোরার পর আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কয়েক ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখার পর আজ শনিবার রাতে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দিল্লির জাফরপুর থানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আটকের পর মুক্তি পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিশদ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’ রোববারের জন্য যে যৌথ অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তিনি তার অপেক্ষায় আছেন এবং সেই শৃঙ্খলা ভাঙতে চান না।
মুক্তির পর পিটিআইয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এখনই কিছু বলব না। কারণ আগামীকাল ইন্ডিয়া জোট যৌথ অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছে, আমরা সবাই একসঙ্গেই আছি। আমি এই প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কিছু বলে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারি না।’
ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতির বক্তব্য উদ্ধৃত করে মমতা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বলেছেন তদন্ত করতে হলে প্রমাণের প্রয়োজন। আমরা বলেছি, ঠিক আছে, আমরা উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করব।’
অন্যদিকে, সিজেপির এই বিক্ষোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশ নেওয়া এবং সমর্থন দেওয়া নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে রাজ্য বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক বিবৃতিতে কটাক্ষ করে বলেন, কলকাতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে দিল্লিতে গিয়ে সিজেপির আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশ নেওয়া অনুচিত ছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আটকের ঘটনাকে ভুল উল্লেখ করলেও শমীক প্রশ্ন তুলে বলেন, নিজেকে ‘সিংহী’ দাবি করা একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেন ককরোচ (তেলাপোকা), কাঁকড়া, খরগোশ ও হরিণদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন?
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজারের বেশি আন্দোলনকারী ও বিরোধী নেতা-কর্মীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
এদিকে বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পৃথক এফআইআরের প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।
ভোটার তালিকায় জালিয়াতি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশ সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে পুরো শহরজুড়ে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করে। রাজধানী জুড়েই দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো নয়াদিল্লি এলাকাকে একাধিক জোনে ভাগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী আটককেন্দ্র বানিয়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কনট প্লেস ও টলস্টয় রোডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মোদির পুলিশ প্রশাসন।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
