‘জামায়াতে ইসলামীকে কাছে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ’

ভোটের হিসাব বিবেচনা করে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীকে নিজেদের কাছে রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল৷ সেই সাথে বিএনপিও জামায়াতে ইসলামীকে পেতে চায় বলে জানান তিনি৷
‘ভোট ব্যাংকের হিসেবে কখনো আওয়ামী লীগ তাদেরকে (জামায়াতে ইসলামীকে) বগলের নিচে রাখতে চায়, আমরাও তাদেরকে বন্ধু হিসেবে পেতে চাই৷ এই বৈশিষ্ট্যটি দুই দলের পক্ষ থেকেই সুন্দরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে৷’ সাম্প্রতি এক টকশো অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এসকল কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীকে নিজেদের কাছে রাখতে চায় এ মন্তব্যের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কী তথ্য আছে জানতে চাইলে আলাল বলেন, “আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ একসাথে ১৬ জনকে (জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী) আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়েছেন৷” তিনি জামায়াতে ইসলামী ‘উভচর’ অর্থাৎ জলে, স্থলে দুই জায়গাতেই সুযোগ বুঝে বিচরণ করে বলেও মন্তব্য করেন৷
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কী চায়, কিংবা দলটি যে-কোনো বিরোধী মতকে দমন করতে চায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ ড. হাবিবে মিল্লাত বলেন, জনগণের দল হিসেবে আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের উন্নয়ন চায়৷ তিনি বলেন, আওয়ামি লীগ জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনগণের উন্নয়ন চায়৷
দেশের ইতিহাস সঠিকভাবে সংরক্ষিত হোক এবং অতীত-বর্তমান নিয়ে সত্য ঘটনাগুলো প্রকাশিত হোক সেটিই আওয়ামী লীগ চায়৷
আশির দশক ও নব্বইয়ের দশকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেই সময় স্বাধীনতার বীরত্বগাঁথা সঠিকভাবে জানা যায়নি৷
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেটিও রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারিত হয়নি৷ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে ধীরে ধীরে এ বিষয়গুলো মানুষ জানতে পারে, বলেন তিনি৷
সম্প্রতি সরকারি দলের নেতৃবৃন্দের মাঝে সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মিল্লাত বলেন, “দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন এটি এখনই সমাধান করতে হবে না৷”
তবে এটিকে সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে ড. মিল্লাত বলেন, “শুধু একটি কবরের কথাই যে বলা হচ্ছে তা কিন্তু নয়৷ এখানে আরো সাতটি থেকে আটটি কবর রযেছে৷ তার মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের স্বাধীনতার সময় বিতর্কিত অবস্থান ছিল৷”
স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশায় সংসদ ভবনকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনেই বিষয়টি নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি৷
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত