বাউফলে পালাগান করতে নিষেধ করায় ৩ জনকে কুপিয়ে জখম

| আপডেট :  ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:১৪  | প্রকাশিত :  ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:১৪

সাকিব হোসেন, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে পালাগান করতে নিষেধ করায় তিনজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছ। বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাউফল সদর ইউনিয়নের কায়না গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়াতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।

আহতরা হলেন, বাউফল সদর ইউনিয়নের কায়না গ্রামের নাসির মৃধা (৪০), সোরহাব হাওলাদার (৬০) ও ইউসুফ মৃধা (৬০)। স্থানীয় কয়েকজন মিলে এ হামলার ঘটনা ঘটায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন (৩১ মার্চ) কায়না জামে মসজিদে ঈদের নামাজের আগে এলাকাবাসীরা পালাগান নিয়ে আলোচনা করে এবং পালাগান করতে নিষেধ করে। নিষেধ উপেক্ষা করে চুন্নু ও তার লোকজন মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) পালাগানের আয়োজন করে। এতে এলাকার কিছু প্রবীণ ও যুবক আপত্তি জানিয়ে গান বন্ধ করতে বলে। ক্ষিপ্ত হয়ে চুন্নুর নেতৃত্বে দুলাল, লিটন, জসি মুন্সি, উজ্জ্বল হাওলাদার ও আবু কালামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাসির, সোরহাব ও ইউনুসের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়াতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের বরিশাল-শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।

এ ঘটনার পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সেখানে বাউফল সদর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ফরিদ গাজী ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের ভিডিও করতে বাধা দেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেন।

আহত নাসির মৃধার চাচা হানিফ মৃধা বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। মেম্বার মালেক ও চুন্নুর নেতৃত্বে এই গ্রুপটি আধিপত্য বিস্তারের জন্য এই হামলা চালিয়েছে। গতকাল সারারাত তারা গান বাজিয়েছে, এলাকার কিছু প্রবীণ ও যুবক বাধা দেওয়ায় আজ আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

বাউফল সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মালেক মেম্বার বলেন, আমি সারাদিন এলাকায় যায়নি। এই হামলার ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত না। আমি এই ধরনের মারামারি অভদ্র রাজনীতি করিনা। আমাকে পূর্বের শত্রুতার জেরে ফাসানো হচ্ছে । আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি মাহবুব আলম চুন্নু ও তার লোকজন এই হামলার সঙ্গে জড়িত। আমি চাই তদন্ত করে প্রকৃত হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হোক ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহবুব আলম চুন্নুকে একাধিকবার মোবইল ফোনে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে ।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত