পুরুষের টাক পড়ার কারণ ও করণীয়

সাম্প্রতিককালে পুরুষের টাক পড়ার সমস্যা অনেক বেড়েছে। তরুণদের মধ্যেও প্রচুর পরিমানে চুলপড়ার সমস্যা দেখা যাচ্ছে। অল্প বয়সে টাক পড়ে যাওয়া পুরুষের অস্বস্তির অন্যতম কারণ। প্রতিদিন একজন মানুষের গড়ে ১০০টি চুল পড়ে। তবে অনেক বেশি হারে চুল পড়তে শুরু করলে তা দুশ্চিন্তার ব্যাপার। এর চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
চুলপড়া সমস্যা কোনো রোগ নয়। যে কোনো রোগ অথবা সমস্যা থেকে চুল পড়তে পারে। চুল হারানোর কারণ মূলত দুটি—বংশগত ও বয়সজনিত। বংশগত বা জেনেটিক কারণে চুল পড়ার ক্ষেত্রে হরমোন দায়ী।
মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস হচ্ছে পুরুষের চুলপড়া সমস্যার অন্যতম একটি ধরন। সাধারণত জিন ও পুরুষ সেক্স হরমোন হিসেবে খ্যাত টেস্টস্টেরনই এ জন্য দায়ী।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ হরমোনজনিত চুলপড়া সমস্যার কোনো ভালো চিকিত্সা নেই। কারণ হরমোন পরিবর্তন করে চুলপড়া সমস্যার চিকিত্সা যৌক্তিক নয়।
এ ছাড়া বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চুলের ফলিকলগুলো সংকুচিত হয়ে যায় বা চুলের বৃদ্ধিচক্র সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়। ফলে চুল গজানোর হারের চেয়ে পড়ার হার বেড়ে যায়।
এসব ক্ষেত্রে মিনোক্সিডিল টপিক্যাল সলিউশন টাক পড়ার সমস্যার একটা সমাধান হতে পারে। মিনক্সিডিল হচ্ছে এক ধরনের লোশন বা সলিউশন যা যা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়।
লোশনটি সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার করতে হয়। এটি ব্যবহারে চুলের ফলিকলগুলো বৃদ্ধি করার মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধি পর্যায় সংক্ষিপ্ত করে। এতে চুল লম্বা ও ঘন হয়। এ ছাড়া এই পদ্ধতি রক্ত চলাচল বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।
কিন্তু এটি ব্যবহারের আগে কিছু বিষয় লক্ষ করতে হবে। যেমন আপনার পরিবারের অথবা বংশের কোনো পুরুষ-নারীর চুল পড়া বা টাকের সমস্যা আছে কি না। গোসলের সময়, বালিশে অথবা চিরুনিতে আগের চেয়ে বেশি চুল পড়ছে কি না।
মাথায় আক্রান্ত স্থানে ড্রপার দিয়ে এক মিলিলিটার করে অথবা ৮ থেকে ১০টি স্প্রে দিয়ে দিনে দুবার লোশনটি প্রয়োগ করতে পারেন। এটি ব্যবহারে তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে কেউ কেউ মাথার তালুতে আলতো চুলকানিজনিত অস্বস্তিবোধ করতে পারেন।
চুলপড়া সমস্যার প্রকৃত কারণ জেনে চিকিত্সার পাশাপাশি যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে। আর রোগীকে আস্থাশীল করতে না পারলে রোগীও দীর্ঘমেয়াদি চিকিত্সা নিতে উত্সাহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত