বেতন পাচ্ছেন না ৪৮৩ শিক্ষক

| আপডেট :  ১১ এপ্রিল ২০২২, ০৪:১৫  | প্রকাশিত :  ১১ এপ্রিল ২০২২, ০৪:১৫

বড় আশা নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছিলেন তারা। এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে দুই মাস। অথচ বেতন পাননি এক টাকাও।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের পর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এ শিক্ষকদের পোস্টিং দেওয়া হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু সমন্বয় না থাকায় এক বিদ্যালয়ে এক বিষয়ে একাধিক শিক্ষক যোগদান করেছেন। ফলে অনেকেই হয়ে পড়েছেন অতিরিক্ত শিক্ষক। এ কারণে ৪৮৩ জন শিক্ষক যোগদানের পরও বেতনবঞ্চিত রয়েছেন। সমস্যা সমাধানে এখনও টানাপোড়েন চলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মধ্যে। মন্ত্রণালয় ও মাউশি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, যোগদানের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও বেতন পাননি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষকরা। তাদের বেতন কবে হবে, এ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে ঋণ করে কষ্টে দিন পার করছেন তারা।

এ বিষয়ে মাউশি পরিচালক (বিদ্যালয়) বেলাল হোসাইন বলেন, শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে মাউশি থেকে সমন্বয় করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তা বাতিল করা হয়। এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে মাউশি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনাও আসেনি। তিনি আরও বলেন, সামনে ঈদ। এ মুহূর্তে শিক্ষকরা বেতন-বোনাস পাচ্ছেন না। বিষয়টি খুবই হতাশা ও লজ্জার।

সারাদেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৪০টি। এ ছাড়াও রয়েছে আত্তীকৃত ৩০০ বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। যার মধ্যে ৫ হাজারের বেশি সিনিয়র শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। নতুন যোগদান করেছেন দুই হাজার শিক্ষক। ফলে অনেক শিক্ষক অতিরিক্ত হয়ে পড়ায় তাদের বেতন আটকে গেছে।

গতকাল রোববার সরেজমিন শিক্ষা ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকতা পেশায় নতুন আসা তরুণ শিক্ষকদের ভিড়। মাউশি মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে সকাল থেকেই অপেক্ষা করছেন তারা। এ সময় একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ফল ঘোষণার ১৩ মাস পর নিয়োগ পেয়েছি। দুই মাস হলো, এখনও বেতন হয়নি, সামনে ঈদ। এমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা শুধু আমাদের জন্য অপমানজনক নয়, গোটা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য লজ্জার।

নবীন শিক্ষকরা বলেন, আমরা ২ হাজার ৬৬ জন শিক্ষক গত ৭ ফেব্রুয়ারি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদের বিপরীতে যোগদান করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত অধিকাংশ শিক্ষক অতিরিক্ত শিক্ষকজনিত সমস্যার কারণে বেতন-ভাতা পাননি। সবাই টানা দুই মাসের বেশি সময় ধরে বেতনহীন।

অভিযোগ করে তারা বলেন, পদায়নের ক্ষেত্রে একজন নবীন শিক্ষককে নিজ জেলা, পার্শ্ববর্তী জেলা কিংবা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পদায়নের সুযোগ থাকলেও দূরের জেলায় পদায়ন করা হয়েছে। এ কারণে নতুন শিক্ষকরা দুর্ভোগে পড়েছেন। এ বিষয়ে মাউশি মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

জানা গেছে, গত ৮ মার্চ সিনিয়র ও সহকারী শিক্ষকদের সমন্বয়ের চেষ্টা করে ৪৭৮ শিক্ষককে একযোগে বদলি করা হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। এরপর থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান মাউশি। ফলে সরকারি মাধ্যমিকে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।

মাধ্যমিকে কর্মরত শিক্ষকরা জানান, বিসিএস চিকিৎসকদের পোস্টিং দেওয়া হয়ে থাকে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে। অন্যদিক এবার নতুন শিক্ষকদের পোস্টিং দেওয়া হয়েছে শহর অঞ্চলে। যা শুধু নজিরবিহীন নয়, চাকরি বিধিমালার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। গোড়ায় গলদ থাকার কারণে মাধ্যমিকে এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের মতো তিন বছর বদলি করা হলে সমস্যার সমাধান হতো, কিন্তু নানা অদৃশ্য কারণে এসব বদলি হয় না।

তবে বেতনের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডা. সৈয়দ ইমামুল হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। শিগগির নতুন শিক্ষকরা বেতন পাবেন। আমরা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছি।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত