পেট্রোলের আগুনে হোটেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীরের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

| আপডেট :  ০৯ জুন ২০২৩, ১২:৩৪  | প্রকাশিত :  ০৯ জুন ২০২৩, ১২:২২

মোঃ সিফাত হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীতে চাঁদা না দেয়ায় বখাটে সাকিব গাজীর পেট্রোলের আগুনে ফটিকের খেয়াঘাট এলাকার সিকদার রেস্ট হাউজের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর ফকিরের হত্যার প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল ও বৃহত্তর আন্দোলনের কথা জানিয়েছেন মানববন্ধনের বক্তরা।

শুক্রবার (৯ জুন) সকাল ৯ টায় দুমকির বোর্ড অফিস বাজারে দুমকি উপজেলা সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের ১নং সহ-সভাপতি, মোঃ মিজানুর রহমান সিকদার, সাবেক মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পটুয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফর উল্লাহ , জাহাঙ্গীরের বড় ভাই ঢাকা কোতোয়ালি থানা শ্রমিক দলের আহবায়ক আয়নাল হক, পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচ এম আনোয়ার হোসেন, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি এস. এম. হাসান মাহমুদ, মুরাদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ ফারুক হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিফাত হোসেন প্রমুখ।

মানববন্ধনের পরে জাহাঙ্গীরের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে এলাকার নারী পুরুষ সহ সহস্রাধিক লোক অংশগ্রহণ করেন। পরে জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জাহাঙ্গীরের জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, আমার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর একজন ভালো ছেলে ছিলো, সে পটুয়াখালীর শিকদার আবাসিক হোটেলে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছিল, দুষ্কৃতকারীরা তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে সে কয়েক দিন যাবত শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় মৃত্যুবরণ করেন। আমি প্রশাসনের কাছে তার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

মুরাদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পটুয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফরুল্লাহ বলেন, যে সন্ত্রাসী কর্তৃক জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়েছে এবং যে সন্ত্রাসী তাকে নির্মম নিষ্ঠুর ভাবে চাঁদা না দেওয়ার হত্যা করেছে তার সর্বোচ্চ বিচার ফাঁসি দাবি করছি।

নিহত জাহাঙ্গীরের ছেলে জাকারিয়া বলেন, যারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে এবং যারা আমাদেরকে এতিম করেছে তারা ভবিষ্যতে আর কোন ছেলেমেয়েকে এতিম করতে না পারে তাই আমি সাকিব গাজীর ফাঁসির দাবি করছি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচ এম আনোয়ার হোসেন বলেন, খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন, তা না হলে ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আবুল বাসার জানান, এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে আমাদের একটি টিম কাজ করছে।

উল্লেখ্য গত ২ জুন সন্ধ্যায় পটুয়াখালী পৌর শহরের ফটিকের খেয়াঘাট এলাকার সিকদার রেস্ট হাউজের দ্বিতীয় তলায় এসে ম্যানেজার জাহাঙ্গীর ফকিরের কাছে চাঁদা দাবি করেন শাকিব গাজী পরে চাঁদা না দেয়ায় তার গায়ে পেট্রোল নিক্ষেপ করেন। এসময় ম্যানেজার জাহাঙ্গীরের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তার গায়ে আগুন দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে রেফার করা হলে দীর্ঘ পাঁচ দিন পর বুধবার রাত দশটায় সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত