মা ছিলেন শিক্ষক, ছেলে প্রধানমন্ত্রী

বেশ কয়েকটি কেলেঙ্কারি ও জনপ্রিয়তা ধস নামায় গত আগস্টে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন দেশটিতে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতা ও আইনপ্রণেতা শিগেরু ইশিবা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
আগামী অক্টোবরে পার্লামেন্ট পুনরায় বসলে ইশিবা সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ইশিবা অর্থনৈতিক সুরক্ষামন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে মাত্র ২১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। টোকিওতে এলডিপির প্রধান কার্যালয়ে নতুন নেতা নির্বাচনে ভোট দেন দলটির আইনপ্রণেতা ও আঞ্চলিক নেতারা। ইশিবার পক্ষে পড়ে ২১৫ ভোট। আর তার প্রতিপক্ষ তাকাইচি পান ১৯৪ ভোট।
কে এই শিগেরু ইশিবা
১৯৫৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করা ইশিবার বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা ছিলেন শিক্ষক। তার বাবা নির্মাণ উপমন্ত্রী এবং পরে তোত্তোরি প্রশাসনিক অঞ্চলের গভর্নর ছিলেন। তোত্তোরি প্রশাসনিক অঞ্চলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ করে ইশিবা টোকিওতে চলে যান। সেখানে তিনি কেইও বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। স্নাতক শেষে ইশিবা মিতসুই ব্যাংকে যোগদান করেন, যেখানে তিনি ১৯৮৩ সালে রাজনীতিতে ক্যারিয়ার শুরুর আগ পর্যন্ত ছিলেন।
১৯৮১ সালে তার বাবা জিরো ইশিবা মারা যান। পরে ইশিবা তার প্রয়াত বাবার এক বন্ধুর পীড়াপীড়িতে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৬ সালে এলডিপির প্রার্থী হিসেবে তোত্তোরি প্রিফেকচার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইশিবা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হন। তবে ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময় দলের সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে প্রায়ই কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি। ১৯৯৩ সালে কৃষির সংসদীয় উপমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হন। এ সময় নিম্ন জন্মহার কাটিয়ে উঠতে ও স্থানীয় অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত করার জন্য দায়িত্ব পালন করেন।
মন্দিরের ভেতরে কিশোরীদের যৌন নির্যাতন করতেন পুরোহিতমন্দিরের ভেতরে কিশোরীদের যৌন নির্যাতন করতেন পুরোহিত
এলডিপি ত্যাগ করে ১৯৯৩-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জাপান রিনিউয়াল পার্টির হয়ে রাজনীতি করেন। তবে সেখানে বিভিন্ন উপদলগুলোর কারণে হতাশ হয়ে তিনি আবার এলডিপিতে যোগ দেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবেও ইশিবা সুপরিচিত। কারণ তিনি ২০১২ সালের নির্বাচনে শিনজো আবের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও তার নীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইশিবার লক্ষ্য বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস, মজুরি বৃদ্ধি, পারমাণবিক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং চীন ও উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা।
লেবাননে নিহত বেড়ে ৬২০, ‘বড় যুদ্ধের পথে’ ইসরায়েললেবাননে নিহত বেড়ে ৬২০, ‘বড় যুদ্ধের পথে’ ইসরায়েল সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪-এর মতে, জাপানের আঞ্চলিক অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে দেশটির নিম্ন জন্মহার উন্নতির পরিকল্পনাও রয়েছে ইশিবার। দলের সদস্যদের ভোটে জয়ী হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘এই দেশকে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেখানে সবাই আবার হাসিমুখে বসবাস করতে পারবে।’ তার ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান ইশিবা।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত