শেখ হাসিনার পক্ষে মানববন্ধন করা সগীর এখন পবিপ্রবির শিক্ষক

| আপডেট :  ০৮ মার্চ ২০২৫, ১০:০৩  | প্রকাশিত :  ০৮ মার্চ ২০২৫, ১০:০৩

 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রভাষক হিসেবে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নূন্যতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। তবে যারা এমফিল ডিগ্রিধারী তাদের ক্ষেত্রে এ শর্ত কিছুটা শিথিলযোগ্য।

এমফিল ডিগ্রিধারীরা দুই বছর এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা এক বছর সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়েগ পেতে পারেন। তবে সম্প্রতি এ বিধিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দুইজনকে ও প্রভাষক হিসেবে একজনকে নিয়োগ দিয়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডঃ কাজী রফিকুল ইসলাম। এমনকি অভিযোগ রয়েছে এসব শিক্ষকদের মধ্যে জুলাই আন্দোলনের ঘোর বিরোধীতাকারী ব্যক্তিরাও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারী মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে ডঃ মোঃ সগিরুল ইসলাম মজুমদার, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে ডঃ মো. ইকবাল হোসেন এবং কমিউনিটি হেলথ এন্ড হাইজিন বিভাগের প্রভাষক পদে ডাঃ মোঃ মহিবুল্লাহকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এ তিন নিয়োগপ্রাপ্তর কেউই ইতোপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেননি। এদের মধ্যে সগিরুল ইসলাম বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এছাড়াও, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে এডহক, দৈনিক মজুরীভিত্তিক, চুক্তিভিত্তিকসহ যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রেই পূর্বানুমতি গ্রহনের বিষয়ে ইতোপূর্বে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। এক্ষেত্রে সে নির্দেশনাও মানা হয়নি। এমনকি সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৫৪ তম সভায়ও এমন কোন পূর্বানুমতিও গ্রহণ করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এ তিন নিয়োগপ্রাপ্তর মধ্যে সগিরুল ইসলাম ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। পাট গবেষণায় সরাসরি ভাইবার মাধ্যমে চাকুরি পেতে আওয়ামীলীগের সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক সরাসরি তার পক্ষে তদবির করেছিলেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত সগিরুল ইসলাম পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৫ আগস্ট, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদযাপনসহ আওয়ামীলীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে তিনি ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ছিলেন, এমনকি তিনি ছাত্র-জনতা কর্ত্ক শেখ হাসিনা পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণার পরও শেখ হাসিনার পক্ষে মানববন্ধন করেছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিতে দেখা যায়, ৪ আগস্ট জাতীয় সংসদের অ্যানেক্স ভবনের সামনে ‘প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখুন’ শীর্ষক ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন সগীরুল ইসলাম মজুমদার। এ ছাড়াও সগিরুলের আপন বড় ভাই পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিক অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুজিশন বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাজহারুল ইসলাম শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে জেতাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা তাকে বিপিএম সেবা পদকে ভূষিত করেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড.মোঃ মোহাম্মদ তানজীম উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কোন অনুমতি ছাড়াই নিয়োগ প্রদান করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

একই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন নিয়োগের বিষয়ে আমাদেরকে জানানো হয়নি, তদন্ত করে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করতে ভালো হতো।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ড. সগিরুল ইসলাম মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিটি প্রোগ্রামে আমাকে জোর করে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। কেউ আমার মানহানি করলে আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিনকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত