ডিএনএ টেস্ট হয়নি, সব গুজব: র‌্যাব

| আপডেট :  ০৬ মে ২০২৬, ০৪:৩৯  | প্রকাশিত :  ০৬ মে ২০২৬, ০৪:৩৯

নেত্রকোনার মদনে ১২ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ ওরফে মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে ময়মনসিংহে র‍্যাব-১৪-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিশুটির ভ্রূণের ‘ডিএনএ টেস্ট’ সংক্রান্ত তথ্যটিকে সম্পূর্ণ ‘গুজব ও ভিত্তিহীন’ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব-১৪-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাঈমুল হাসান জানান, মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনমপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভোর চারটার দিকে অভিযুক্ত আমান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ‘সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার’ দাবি করেন যে, শিশুটির ভ্রূণের ডিএনএ টেস্ট করা হয়েছে এবং তাতে অভিযুক্ত শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এই তথ্যটিকে ‘অবৈজ্ঞানিক’ আখ্যা দিয়ে র‍্যাব অধিনায়ক বলেন, ডিএনএ টেস্ট হয়নি। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া। প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবশ্যই তা করবেন। তদন্তের স্বার্থে যা যা করা দরকার, সবই করা হবে। মূলত অভিযুক্তকে নির্দোষ প্রমাণের উদ্দেশে এই গুজব ছড়ানো হয়েছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত আমান উল্লাহ নেত্রকোনার মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ভুক্তভোগী শিশুটি পড়াশোনা করতো। শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন এবং বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হওয়ায় সে নানির কাছে থাকত।

চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার জানিয়েছেন, গত নভেম্বরে মাদ্রাসা ছুটির পর ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে আটকে রেখে প্রথমবার ধর্ষণ করেন ওই শিক্ষক। পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরও পাঁচ থেকে সাত বার একই কাজ করা হয়। শিশুটি বর্তমানে চরম ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তার শারীরিক গঠনের তুলনায় গর্ভস্থ সন্তানের আকার বড়ো হওয়ায় প্রসবকালীন জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শিশুটির মা রাজি না হওয়ায় তিনি মাদ্রাসা বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারের আগে অজ্ঞাত স্থান থেকে পাঁচ মিনিট চার সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মামুন মিয়া বলেছিলেন, মেয়েটি তার মাদ্রাসায় পড়লেও তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনি তদন্তের মাধ্যমেই সত্য বেরিয়ে আসবে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত