দুমকিতে শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের মারধরে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

| আপডেট :  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩  | প্রকাশিত :  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩

​দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের হাতে মোঃ রফি নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুমকি আপতুননেছা খাতুন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্কুল চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় বরিশাল শেরেই বাংলা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে প্রেরণ করা হয়।

​আহত শিক্ষার্থী রাফি জানায়, আমি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষেই জিহাদ, রাজন,সাহাদ, আল-আমীন, মেহেদী, তামিম, নুরনবী, মোডা তামিমসহ আট জন সহপাঠী নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।তারা ক্লাসে বসে আমাকে লম্বু, উপজাতি এবং কলম দিয়ে খোঁচা দেয় এবং মাঝে মাঝে গলা টিপে ধরে। আমি বারবার স্যারদের জানালেও তারা কোনো বিচার বা ব্যবস্থা নেননি। সোমবারও ক্লাসে বসে তারা একইভাবে আমার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

​অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর আহত রাফিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে স্কুলের পিয়ন নজরুল লাইব্রেরিতে নিয়ে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন এবং তার মাকে খবর দেন।

​রাফির মা মোসা. সুমি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলেটা একটু সহজ-সরল, তাই স্কুলে ওর ওপর অত্যাচার হলেও বাড়িতে এসে কিছু বলত না। বিদ্যালয় থেকে ফোন পেয়ে গিয়ে দেখি আমার ছেলেকে পিয়োনের রুমে বসিয়ে রাখা হয়েছে, ওর পুরো শরীরে মারধরের চিহ্ন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। শিক্ষকরা যদি একটু সচেতন ও দায়িত্বশীল হতেন, তবে আজ আমার সন্তানের এই পরিণতি হতো না।

​ঘটনার বিষয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা হেপি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এবং বলেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে লম্বু, উপজাতি বলে উত্ত্যক্ত করে।

​এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই । বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং শিক্ষকদের অবহেলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত