মক্কায় হামলার নিন্দা, সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক ডাকছে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান

মক্কা ও সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করে সৌদির নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে সহযোগিতার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতির বিষয়েও আলোচনা করেন তারা।
সৌদি সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট বলছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পরামর্শের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বৈঠক করেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
জাতিসংঘে সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চুক্তিটির সাধারণ সচিবালয়, কমিটি ও ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের অগ্রগতি এবং এগুলোকে কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রস্তুত করার বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মক্কা ও সৌদি আরবের বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানান। সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কতা এবং দেশটির নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের সক্ষমতার প্রশংসাও করেন তারা। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় মনে করা পদক্ষেপ নেয়ার সৌদি আরবের অধিকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
এছাড়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনাপ্রধানদের একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের চলমান প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করেন তিন মন্ত্রী।
চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের একটি দেশের ওপর হামলাকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
এ ছাড়া আঞ্চলিক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তারা। আন্তর্জাতিক আইন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিন মন্ত্রী। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তারা।
এছাড়া পুরো অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা এবং চলমান সংকটগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ এগিয়ে নেয়ার প্রতিও সমর্থন জানান তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
