যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি কূটনীতির বাজিমাত, বেকায়দায় ট্রাম্প-নেতানিয়াহু

| আপডেট :  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭  | প্রকাশিত :  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থাতেও জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে দেশটিতে গিয়ে নজর কেড়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ ইরানের প্রতিনিধিদল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বনেতারা যখন নিউইয়র্কে জড়ো হয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার এই সুযোগ কাজে লাগান। তারা ইরানকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা একটি দেশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। আর আইন অমান্যকারীদের ‘দখলদার’ বা ‘দাম্ভিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

আরাগচি দুই ডজনেরও বেশি কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যার মধ্যে দশটিরও বেশি ইউরোপীয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। এমনকি কিছুদিন আগে যে দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে লাগাতার হামলা চালিয়েছে ইরান, সেই জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক। সেখানেই শেষ নয়, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গেও বিরল এক বৈঠক করেছে ইরানের প্রতিনিধিদল। পশ্চিমা গণমাধ্যমকে সামনে রেখে হরমুজ প্রণালি খুলতে সাতদিনের একটি রোডম্যাপের প্রস্তাবও দিয়েছেন আরাগচি। এই প্রস্তাবকে হরমুজে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানের সদিচ্ছা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ ইস্যুতে বল তাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।

 

জাতিসংঘের সমাবেশে দেয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনোই ‘মাথা নত করবে না’। তার এই কথাটি ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পক্ষের শক্তির কাছে বেশ সমাদৃত হয়েছে। অথচ যুদ্ধকালীন নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ যখন ইরানের অর্থনীতিকে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে, তখন তাদের অনেকেই এই সফরের বিরোধিতা করেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের একটি হোটেলে পশ্চিমা সাংবাদিক ও থিংক-ট্যাংক বিশ্লেষকদের সঙ্গে বসে তার সরকারের চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। গত কয়েক দশকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইরানের অংশগ্রহণ মনোযোগ আকর্ষণ করলেও যুদ্ধের ছায়ায় এবারের সফরটি হয়ে উঠেছে মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্ব ও দেশীয় উভয় মহলের মনোযোগের কথা মাথায় রেখে ইরানের শীর্ষ নেতারা অত্যন্ত কৌশলগতভাবে এই সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন।

প্রাথমিকভাবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পেজেশকিয়ান এবং আরাগচির কূটনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবপন্থীরা। সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া একটি দেশে সফরের সিদ্ধান্তকে তারা আত্মসমর্পণের লক্ষণ হিসেবে দেখেছিলেন। বিশেষ করে উইটকফের সঙ্গে দেখা করার কারণে ইরানের রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে পড়েন আরাগচি।

দেশটির আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাই গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক্স-এ লিখেছেন, ‘পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা কোনও হঠকারিতার জায়গা নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে, শত্রুর প্রতিনিধির সঙ্গে তার বৈঠকটি কার অনুমতিতে হয়েছিল?’

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেসব বিষয়ে মনোযোগ না দিয়ে বরং প্রতিপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ বাড়াতে চেয়েছেন। মার্কিন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকদের কাছে তাদের চিন্তাভাবনা পৌঁছে দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘে ‘ইরান মাথা নত করবে না’ বলে হুঙ্কার দিয়ে রক্ষণশীলদেরও খুশি রেখেছেন তারা।

এদিকে মার্কিন সরকার ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যত বড় হুমকি হিসেবে প্রচারের চেষ্টাই করুক না কেন, এই ইস্যুতে মার্কিন জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। ইরানের প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোন বিক্ষোভ বা আন্দোলনের মুখে পড়তে হয়নি। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। সেই বিক্ষোভ থেকে অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমিজয়ী অভিনেত্রী হানা আইনবিন্ডারসহ শতাধিক আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়। সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বেশিরভাগ দেশের প্রতিনিধিরা ওয়াকআউট করেন।

সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত