মার্কিন জনগণের উদ্দেশে চিঠিতে যে বার্তা দিল ইরান

| আপডেট :  ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১  | প্রকাশিত :  ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে পাঠানো ইরানের চিঠি শুধু গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য নয়, বরং ইরানের অবস্থান ও যুক্তি সরাসরি তুলে ধরা—এমনটাই জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ কথা বলেন।

জেনারেল মোহেব্বি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে সাময়িক প্রচারণা চালানোর পরিবর্তে ইরান মার্কিন জনগণের সঙ্গে ‘সৎ, যৌক্তিক ও বাস্তব’ উপায়ে কথা বলতে চায়।

তার দাবি, অনেক মার্কিন নাগরিক ইরানের অবস্থান ও যুক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন। তাই তাদের কাছে সরাসরি বার্তা পৌঁছাতে চিঠিকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে শত শত টেলিভিশন ও রেডিও নেটওয়ার্ক থাকলেও মার্কিন ভূখণ্ডে ইরানের নিজস্ব বিস্তৃত গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক নেই।

এ বাস্তবতায় সরাসরি ও স্পষ্টভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য চিঠিকে উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে নেওয়া হয়েছে। চিঠিটি পড়ে মতামত, সমালোচনা বা ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগেরও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান।

চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান আইআরজিসির মুখপাত্র। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মহাসাগরবেষ্টিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশগুলোর কেউ যখন দেশটির জন্য বড় ধরনের সামরিক হুমকি তৈরি করে না, তখন বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখার প্রয়োজন কী।

একই সঙ্গে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের অর্থনৈতিক ও যৌক্তিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মোহেব্বি আরো বলেন, গত সাত দশকে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানগুলোর ইতিহাসও মার্কিন জনগণের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

মার্কিন গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং সেসবের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি সম্পর্কে তারা অবগত। তাই এসব বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত