আদমদীঘিতে জলমহাল ইজারার রাজস্ব খাতের ১২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও এসিল্যান্ড অফিসের এক কর্মচারী

| আপডেট :  ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮  | প্রকাশিত :  ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৬

রীআদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি বছরে জলমহাল ইজারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ১ম ও ২য় দফায় ডিসিআর ও চুক্তিনামা ফি বাবদ ১২ লাখ টাকা জমা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার, ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে। এদিকে, জলমহাল ইজারার প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও উপজেলা জলমহাল কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের পক্ষ থেকে ওই টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তা ছাড়া ইজারা গ্রহীতারা টাকা জমা দেওয়ার পর ডিসিআর, চুক্তিনামা ও পুকুরের দখল না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক গ্রহীতারা গ্রহিতারা।

এদিকে, রহস্যজনক কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে অফিসের কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ তার নিজ কর্মস্থলে না আসায় অসন্তোষ বিরাজ করছে লীজ গ্রহীতাদের মাঝে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা জলমহাল কমিটি বাংলা ১৪৩৩ হতে ১৪৩৫ সন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মাধ্যমে সরকারি জলমহাল ইজারার জন্য চলতি সনের এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে দরপত্র আহ্বান করেন। ওই দরপত্রে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১০ পুকুর প্রথম দফায় ইজারা প্রদান করা হয়। এরপর গত মে মাসে দ্বিতীয় দফায় জলমহাল ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করেন উপজেলা জনমহাল ইজারা কমিটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফার দরপত্রে ৮১ টি শিডিউল দাখিল হয়। জলমহাল ইজারা কমিটি দরপত্র যাচাই বাছাই করে ৬৬ টি পুকুরের দরপত্র অনুমোদন দেন। সেই মোতাবেক ইজারা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ৬৬টি পুকুর ইজারা প্রাপ্তদের ডিসিআরের ও চুক্তিনামার কাগজাদি বাবদ টাকা জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। সে মোতাবেক ইজারাপ্রাপ্ত সমিতি কর্তৃপক্ষ তাদের টাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ক্রেডিট চেকিং ও সয়রাত সহকারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ’র কাছে নগদ টাকা প্রদান করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য। পরে কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ মাত্র কয়েকটি পুকুরের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে এ পর্যন্ত ২৩ জনকে ডিসিআর প্রদান করেন। আবার তার কাছে থাকা রাজস্ব খাতের জমার ১২ লাখ টাকা নিয়ে প্রায় দেড় মাস আগে হঠাৎ করে অফিস থেকে উধাও হয়ে যায়। এরপর অদ্যাবধি তিনি অফিসে যোগদান করেনি।

এ ব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম তার কার্যালয়ের কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জলমহাল ইজারাপ্রাপ্তদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, উপজেলার কাশিমালকুড়ি বেকার সমিতি, বিনসারা বেকার সমিতি, মুরইল বেকার সমিতিসহ বেশ কিছু সমিতি কর্তৃপক্ষ ডিসিআর পায়নি, এখনো করা হয়নি চুক্তি। এমতাবস্থায় তারা যখন জলমহাল বা পুকুর দখল পাবেন ততক্ষণে চলে যাবে কয়েক মাস। কিন্তু তাদের তো সে সমযটা কমিটি বর্ধিত করে দেবে না। তিন বছরের মেয়াদ শেষ হবার পরই দখল ছেড়ে দিতে হবে। ফলে ইজারা প্রাপ্তরা লোকসানের আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, আমরা এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ইতোমধ্যে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ কিছু টাকা ফেরত প্রদান করেছে ও কিছু লীজ গ্রহিতাকে ডিসি আরও দেওয়া হয়েছে। টাকা উদ্ধার হলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত