আদমদীঘিতে বাবার চেয়ে মেয়ে ১৫ বছরের বড়

| আপডেট :  ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯  | প্রকাশিত :  ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে প্রস্তুত করা জাতীয় পরিচয় পত্রের ভুলের যেন কোন শেষ নাই। তাদের ভুলের মাসুল (সংশোধন ফি), বিড়ম্বনা ও অবর্ননীয ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জাতীয় পরিচয় পত্রধারী সাধারণ মানুষকে। তথ্য সংগ্রহকারি ও ছাপাখানার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতার কারণে জাতীয় পরিচয় পত্রে নামের বানান, পদ পদবি, জন্ম তারিখ, মাস ও সালের ভুল নিয়ে এমনই এক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের রাজিয়া সুলতানা নামে এক নারী।

জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯২২ সালের ২০ জুন। অথচ তাঁর বাবা মৃত আব্দুর রহিম খন্দকারের জন্ম ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে সরকারি নথির হিসাবে মেয়েই তাঁর বাবার চেয়ে ১৫ বছরের বড়। এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ইন্দইল গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম খন্দকারের সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে রাজিয়া সুলতানা। তাঁর চার বোন ও এক ভাই রয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৮৯ সালের ১২ এপ্রিল। সে হিসাবে বর্তমানে তাঁর বয়স চলছে ৩৭ বছর। কিন্তু জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ ১৯২২ সালের ২০ জুন লিপিবদ্ধ থাকায় সরকারি নথিতে তাঁর বয়স হয়ে গেছে ১০৪ বছর।

অন্যদিকে, রাজিয়া সুলতানার বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের জন্ম ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তাঁর বয়স ৮৯ বছর। ফলে বাবা-মেয়ের বয়সের হিসাব তৈরি করেছে অদ্ভুত ও অবাঞ্চিত এক পরিস্থিতি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরির সময় নির্বাচন অফিসের নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারিকে তাঁর জন্ম তারিখ, মাস ও সাল সঠিকটাই (১২-০৪-১৯৮৯) দিয়েছেন। কিন্তু জাতীয় পরিচয পত্র পাওয়ার পর দেখতে পাচ্ছেন সব উল্টাপাল্টা হিসাব।

সরকারি একটি দপ্তরের করা এ ভুল সংশোধনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন কমিশন দপ্তরে যোগাযোগ করেও অদ্যবধি কোন প্রতিকার পাননি। ফলে জাতীয় পরিচয় পত্র ও জন্ম নিবন্ধন তথ্যের সাথে মিল না থাকায় সরকারি যে কোন সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওযা ছাড়াও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে পদে পদে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে ওই নারীকে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংবাদিক বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ফজলুল করিমের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত