৩ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে অ্যাপল, আইফোন ব্যবহারকারীরা আবেদন করবেন যেভাবে

অ্যাপলের কিছু গ্রাহক আইফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সিরির সক্ষমতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের অভিযোগে করা মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
এ সংক্রান্ত একটি শ্রেণিগত মামলার নিষ্পত্তিতে অ্যাপল ২৫ কোটি ডলার (৩ হাজার কোটি টাকা) দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। নতুন ডিভাইসে এআই ও সিরির কিছু সুবিধা সময়মতো যুক্ত না করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল।
অ্যাপল অবশ্য কোনো ধরনের অন্যায় বা দায় স্বীকার করেনি। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ব্যবহারকারীদের জন্য উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা দেওয়ার কাজে মনোযোগ ধরে রাখতেই তারা বিষয়টির নিষ্পত্তি করেছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৬ বাজারে আসার পর ক্রেতাদের মধ্যে ডিভাইসটিতে এআই সুবিধা যুক্ত হওয়ার ‘স্পষ্ট ও যৌক্তিক প্রত্যাশা’ তৈরি হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ওই বছর অ্যাপল ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’-এর কিছু সুবিধা চালু করলেও সিরির সঙ্গে চ্যাটজিপিটির সংযুক্তি এবং এআই-চালিত ইমোজি তৈরির সুবিধা প্রত্যাশা অনুযায়ী পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
নিষ্পত্তির শর্ত অনুযায়ী, বৈধ দাবি জমা দেওয়া গ্রাহকেরা প্রতিটি যোগ্য ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ ডলার করে পেতে পারেন। তবে মোট বৈধ দাবির সংখ্যা অনুযায়ী অর্থের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ক্ষতিপূরণ পেতে হলে গ্রাহককে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে হবে এবং ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স ও আইফোন ১৬ সিরিজের যেকোনো একটি মডেল কিনতে হবে।
এ ছাড়া ক্রয়ের সময় ডিভাইসে সিরির নির্দিষ্ট অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি; এ বিষয়টিও গ্রাহককে স্বীকার করতে হবে।
আগ্রহী ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে (https://smartphoneaisettlement.com/) গিয়ে সরাসরি ক্ষতিপূরণের আবেদন জমা দিতে পারবেন। আবেদন গ্রহণের এই প্রক্রিয়াটি গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে, যা আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে। একজন গ্রাহক তার মালিকানাধীন একাধিক যোগ্য ডিভাইসের জন্য আলাদা করে দাবি করতে পারবেন।
তবে দাবি করতে হলে ডিভাইসটির মূল ক্রেতা হতে হবে। পুনরায় বিক্রির মাধ্যমে কেনা ডিভাইসের ক্ষেত্রে দাবি করা যাবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কেনা যোগ্য ডিভাইসের জন্য দাবি করতে পারবে।
দাবি ফরম অসম্পূর্ণ হলে, ভুল তথ্য দেওয়া হলে অথবা নির্ধারিত সময়ের পর জমা দিলে তা বাতিল হতে পারে।
আবেদনকারীর বর্তমান যোগাযোগের তথ্যের পাশাপাশি তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ্য ডিভাইসটি কিনেছেন এবং সেটিতে নির্দিষ্ট সিরি অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন; এমন তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। কেনাকাটা ও ডিভাইসের মালিকানা প্রমাণের তথ্যও দিতে হবে।
নিষ্পত্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর যোগ্য দাবিগুলোর অর্থ পরিশোধ করা হবে। গ্রাহকরা ডাকযোগে অথবা ডিজিটাল চেকের মাধ্যমে অর্থ পেতে পারেন।
তবে নিষ্পত্তির বিরুদ্ধে কোনো আপিল হলে অর্থ পেতে দেরি হতে পারে। আপিল না হলে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর দ্রুত অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।
নিষ্পত্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের শুনানি আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে অবস্থিত নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার মার্কিন জেলা আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শুনানিতে আদালত নিষ্পত্তিটি ন্যায্য, যৌক্তিক ও যথাযথ কি না, তা বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে নিষ্পত্তির বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে সেগুলোও পর্যালোচনা করা হবে।
সূত্র : ফক্স বিজনেস
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
