‘নেতানিয়াহু-বিন জায়েদ মিলে বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন’

| আপডেট :  ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯  | প্রকাশিত :  ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬

 

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাওয়া একটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধে জড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি।

 

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ওই সূত্র প্রেস টিভিকে জানিয়েছে, আমিরাতের একটি বিমান ছিনতাই এবং পরে সেটিকে সৌদি আরবে অবতরণের অবাস্তব ঘটনা গত বুধবার ঘটানো হয়। এর তিন দিন আগে নেতানিয়াহু কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন।

 

সূত্রটির দাবি, ওই সফরের সময় এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইসরায়েলি সরকারের আঞ্চলিক বিভিন্ন প্রকল্পে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আরও কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহুপক্ষীয় আলোচনা হয়। এসব বৈঠকে একটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অভিযান চালিয়ে এর দায় ইরানের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ওই সূত্রের মতে, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পকে নতুন একটি সংকটে জড়িয়ে ফেলা এবং ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ শুরু করা। সূত্রটি দাবি করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেসেটে নির্বাচন হলে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে পারবে না- এ নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পর তাকে তার বাকি রাজনৈতিক জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে।

ওই সূত্র আরও দাবি করে, ইসরায়েলি সরকারের ‘অপরাধী প্রধানমন্ত্রী’ আশা করছেন, হোয়াইট হাউস এবং ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের ওপর তার যে প্রভাব রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে আবারও তাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারবেন। সূত্রটির দাবি, নিজের ভয়াবহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে নেতানিয়াহু ‘আমেরিকার অস্ত্র, অর্থনীতি এবং কমতে থাকা বিশ্বাসযোগ্যতা’ ব্যবহার করে যেতে চান।

এদিকে সূত্রটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের সব ধরনের শত্রুতামূলক তৎপরতা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইরান। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহুর ওই অযৌক্তিক ও আগে থেকে পরিকল্পিত বিমান ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্র আবার কোনো বোকামি করার সম্ভাবনার বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

কোনো ধরনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ও ধ্বংসাত্মক হামলা’ চালাতে ইরান প্রস্তুত বলেও দাবি করেন তিনি। এমন হামলার পর তারা নিজেদের ‘ফলস-ফ্ল্যাগ অভিযান ও সাজানো খেলার’ জন্য অনুতপ্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের পরই ষড়যন্ত্রের দাবি
নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের কয়েক দিন পরই এই পরিকল্পনার অভিযোগ সামনে আসে। সফরকালে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বিমান নিয়ে ঘটনার দিন বুধবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইও এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।

আরবি ভাষায় দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকলেও দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। একইভাবে ‘গাজার কসাই’ নেতানিয়াহুকে আতিথ্য দেয়াও ভালো ফল বয়ে আনবে না। রেজাই আবুধাবিকে সর্বশেষ যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেয়া, যুদ্ধ উসকে দেয়া বন্ধ করা এবং আবু মুসা, গ্রেটার টুনব ও লেসার টুনব দ্বীপ নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি বন্ধ করার আহ্বান জানান।

আমিরাতের বিমান নিয়ে ঘটনার আগে দেয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ওই অঞ্চলে ‘শিশুহত্যাকারী ও যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উসকানিমূলক উপস্থিতির’ তীব্র নিন্দা জানায়। মন্ত্রণালয়টি সতর্ক করে বলেছিল, পশ্চিম এশিয়া যখন অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ইসরায়েলি সরকারের এই উপস্থিতির ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি’ হতে পারে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত