ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরানের যোগসূত্র থাকলে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

| আপডেট :  ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮  | প্রকাশিত :  ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সহকারী পাইলটের হামলার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে দেশটিতে খুব ভয়াবহ হামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর এএফপির।

বৃহস্পতিবার (০২ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যা শুনছি, তার ভিত্তিতে বলব হ্যাঁ। তবে আমরা এখনো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’

ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করা হলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নেবে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘ওহ, তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। চিন্তা করবেন না।’

বুধবারের ওই ঘটনায় ফ্লাইটটি হঠাৎ করে এক মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতা হারিয়ে ফেলেছিল বলে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে। যাত্রীরা ককপিটে ছুটে গিয়ে পাইলটকে রক্ষা এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সহায়তা করেন। পরে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। ফ্লাইটের অধিকাংশ যাত্রী ইসরায়েলি ছিলেন এবং পরে তাদের বিশেষ বিমানে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর খবর এসেছে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সম্প্রতি সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। তারা এ অঞ্চলে আগে থেকেই থাকা আরও দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

তদন্তে সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা

ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব বিমানটির ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা তদন্ত শুরু করেছে। ওই ঘটনা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সৌদি আরব জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সহকারী পাইলটকে একটি ‘আমিরাতি নিরাপত্তা দলের’ সঙ্গে আরব আমিরাতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশটির প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তিনি বিমানের ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পর বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাইলট ও হামলাকারীর মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। পরে যাত্রীদের অন্য একটি ফ্লাইটে ইসরায়েলে পাঠানো হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, সন্দেহভাজন সহকারী পাইলট ‘ইসলামপন্থি উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত ছিলেন।

ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা জানি যে সে ইসলামপন্থি উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, হামলাকারী বিমানকর্মীদের উদ্দেশে ‘আমাকে হত্যা করো, আমাকে হত্যা করো’ বলছিল। নেতানিয়াহু বলেন, এতে তার আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট ছিল।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান কৌঁসুলি জানিয়েছিলেন, ঘটনাটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করা হবে।

নেতানিয়াহু বলেন, তদন্তের নেতৃত্ব দেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং এতে ইসরায়েলও অংশ নেবে।

তিনি সন্দেহভাজন সহকারী পাইলটকে ওমানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেন। একই সঙ্গে কীভাবে তিনি ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে কাজ করার অনুমোদন পেলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের এমন বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে বলা আছে যে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন দেশের পাইলটরা এখানে বিমান পরিচালনা করতে পারবেন না। স্পষ্টতই তিনি সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।’

সূত্র : ইউরো নিউজ

 

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত