ড. ইউনূসকে হয়রানি, নিন্দা জানালেন ১২ সাবেক উপদেষ্টা

| আপডেট :  ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২  | প্রকাশিত :  ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচার, হয়রানি ও ব্যক্তিগত হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ সাবেক উপদেষ্টা। তারা বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার ও অনলাইন হয়রানির মাধ্যমে জুলাইয়ে মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার ভেঙে দেয়া যাবে না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশ যখন সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বহু বছরের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন, দুর্নীতি, পদ্ধতিগত নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে বিপর্যস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে। ওই সরকারের সময় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো নিন্দনীয় চর্চার অবসান ঘটে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। তখন প্রত্যাশা ছিল, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি তাকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে বিবৃতিদাতারা বলেন, এর উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি দিয়ে জুলাইয়ে মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার থেকে তাদের বিচ্যুত করা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ এবং তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কার ও মর্যাদার ঐতিহাসিক অঙ্গীকারকে অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ও তার সমর্থকদের প্রচেষ্টায় মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এছাড়াও রয়েছে সাবেক উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. সাখাওয়াত হোসেন, নৌকমান্ডো বীর প্রতীক ফারুক ই আজম, উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

 

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত