আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। অতীতের মতো এখনো একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না। দেশ স্বাধীনের পর থেকে যে মহল বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত… জনগণ তাদের পরাজিত করেছে। আবারও তারা ষড়যন্ত্র নিয়ে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে বিএনপি। এ সময় এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
ঢাকায় আর্মি স্টেডিয়ামে বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা। ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনসিসি-ক্যাডেট-স্কাউটসদের উদ্দেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যারা এই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে সবার একটাই পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয় আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমরা বাংলাদেশি পরিচয় নির্ধারণের জন্য ভিত্তিভূমিও রচিত করেছিল। সুতরাং, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে।
সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকা সেনানিবাসের বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), রোভার স্কাউটসদের একটি ডিসপ্লে (বিশেষ প্রদর্শনী) প্রদর্শন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান গ্যালারি থেকে মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ বিশেষ অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস ও বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যরা অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রভৃতি ঐতিহাসিক ঘটনাবলি স্কাউটস-শিশু-কিশোররা উপস্থাপন করে। একসঙ্গে গড়ব ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর মধ্য দিয়ে মঞ্চে সুরের মূর্ছনায় এই ডিসপ্লেটি সমাপ্তি হয়। পরে গ্যালারি থেকে মঞ্চে এসে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে নয়াপল্টনে র্যালির উদ্বোধন শেষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার হেঁটে যান তিনি।
আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা। সেদিন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে লড়াই করেছেন। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষকের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, সত্য ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। আজকের এই আয়োজনের বিশেষত্ব হলো আমাদের হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী যারা এই স্টেডিয়ামে ৭ নভেম্বরকে ঘিরে যেভাবে নির্মোহভাবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ডিসপ্লে করেছেন আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ইতিহাস সচেতন এই প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না।
সবার আগে বাংলাদেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শেষে বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, যতবার বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ৭ নভেম্বর ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, ‘দিল্লি নয় পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দেশের তরুণরা জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, নব্বইযের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় আমাদের তারুণ্য প্রমাণ করেছে বাংলাদেশর স্বার্থের প্রশ্নের তারা কখনোই আপস করেনি। ভবিষ্যতে আর যাতে কেউ দেশ এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে এটি হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ভৌগোলিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব তবে সেই গৌরবের পতাকাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে রাখা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো- স্বাধীনতার মূল মন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক এবং মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা। অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো- তারুণ্যের সব সম্ভাবনাকে বিকশিত করার প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের কাছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর তাৎপর্যপূর্ণ এবং গৌরবের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল। এই চক্রান্তের পথ ধরেই ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে কারাবন্দি রেখে দেশের স্বার্থ বিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল সিপাহি জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিলো। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী, গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যে অপশক্তি দেশের শৌর্য-বীর্য সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সশস্ত্রবাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল… ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে। অপশক্তি পরাভূত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনোই থেমে থাকেনি। ষড়যন্ত্রের পথ ধরে তারা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে ফের তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালে ফের ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তির পরাজয় ঘটেছে। দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন, ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, আজকের এই দিনে আমি তাদের অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। ২০২৪ ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও প্রায় একইভাবে সিপাহি জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। যতবার বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের পথরেখা বিচ্যুত হয়েছে, ততবার দেশ এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীকে নিয়ে মাঠ ঘুরে গ্যালারিতে বসে থাকা শিক্ষার্থীসহ অতিথিদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মেজবাহ উল আজীমসহ তিন বাহিনী ঊধর্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। অনুষ্ঠানে ছিলেন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যরা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন:
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান ও অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, নুরুল ইসলাম মনি প্রমুখ।
এ ছাড়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরফত আলী সপু, হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব এসএম জাহাঙ্গীর, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, যুবদলের মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানি, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাসির উদ্দীন নাছির, ওলামা দলের কাজী মো. সেলিম রেজা ও মাওলানা আবুল হোসেন, তাঁতী দলের আবদুল কালাম আজাদ, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন প্রমুখ। পরে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীসহ নেতারা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী সমাধিস্থল ত্যাগ করলে নেতাকর্মীর ঢল নামে। একে একে বিএনপি মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, ছাত্রদল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এ্যাব, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা নেতাকর্মীদের নিয়ে আলাদাভাবে শ্রদ্ধা জানান।
এ ছাড়া, দিবসটি স্মরণে ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলের কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রকাশ করা হয় জিয়াউর রহমানের আলোকচিত্র দিয়ে রঙিন পোস্টার ও বিশেষ ক্রোড়পত্র।
নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত শোভাযাত্রা:
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে বিএনপি। এ র্যালির নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান। র্যালিটি কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর-ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে র্যালির শুরু করেন বিকেল সাড়ে ৩টায়।
এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেব। একাত্তর, নব্বই ও ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকের এ র্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার দিন। বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন। হাজারও নেতাকর্মীর কাছে সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন? এ সময় নেতাকর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনেনি। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। অতীতের মতো এখনো একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
