আদমদীঘির সান্তাহার পৌরসভা শহরের এক মহল্লার সংকীর্ণ রাস্তায় চরম ভোগান্তি

প্রতিনিধি, আদমদীঘি (বগুড়া): পৌরসভা শহর মানে পরিকল্পিত নগরায়ণ। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার পাড়া-মহল্লার ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচ ফুট প্রশস্ত রাস্তা রেখে বাড়ি- ঘর নির্মাণের আইন থাকলেও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ আইনের প্রয়োগ করা হয় না।
প্রকৌশল বিভাগের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত অসাধু এক খণ্ডকালীন উপসহকারী প্রকৌশলীসহ কার্যসহকারি মোটা টাকার বিনিময়ে প্ল্যান বহির্ভূত নির্মাণ কাজ দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন। আবার প্ল্যান পাশ করা পর বহু মানুষ প্ল্যান অমান্য করে ঘর- বাড়ি নির্মান করে থাকেন অবাধে। এ ব্যাপারে প্রতিবেশী বা পাড়া মহল্লার মানুষ অভিযোগ করলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোট বাণিজ্য ও রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও নানা কারণে যথাযথ প্রতিকার মেলে না।
এমনিভাবে সান্তাহার পৌরসভা শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডের বশিপুরে পালকি কমিউনিটি সেন্টারের পিছনের মহল্লার পাশাপাশি দুই বাড়ির মাঝখানের রাস্তা এতটাই সংকীর্ণ যে একজন পদচারি কোনো রকমে যাতায়াত করতে পারে। এই সংকীর্ণ রাস্তার কারণে মহল্লার পশ্চিমে থাকা বাসিন্দারা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন প্রায় দেড় যুগ ধরে। সংকীর্ণতার কারণে রাস্তাটির উন্নয়ন না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে মহল্লার পশ্চিম পাশের শিক্ষার্থী, রোগী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করলেও তারা পাচ্ছেন না ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা। এ অবস্থায় দ্রুত পৌর আইন অনুযায়ী রাস্তা প্রশস্ত করে উন্নয়ন করার দাবিতে ভুক্তভোগী মহল্লাবাসী সান্তাহার পৌরসভার প্রশাসক ও আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন সম্বলিত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এলাকাবাসী তাদের আবেদনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ ও সরেজমিন স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে ওই মহল্লার সামনের (পূর্ব);জনৈক; আব্দুল মতিন নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণের সময় চলাচলের জন্য কোনো রাস্তা রাখেননি। পৌরসভার আইন অনুযায়ী বসতবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রাস্তা রাখার আইন থাকলেও তা মানা হয়নি। এরপর থেকেই এই সংকীর্ণ পথে প্রায় ১০ বাড়ির অর্ধশত বাসিন্দা চরম ভোগান্তির জীবনযাপন করছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই মহল্লার পশ্চিম পাশের বাসিন্দা একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। এছাড়াও ওই সব বাড়ি ঘরের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় মোটরসাইকেল কিংবা ভ্যানে করে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে বাড়িতে যাতায়াত সে তো দূরের কথা ওই সব বাড়ির কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ খাটিয়ায় করে ওই পথে আনা নেওয়ার ব্যবস্থাও নেই। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির সমাধান না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
শনিবার (১৬ মে) সরেজমিন গিয়ে ওই মহল্লার সামনের বাসিন্দা ও সান্তাহার পৌরসভার টিকাদান কর্মকর্তা (দীর্ঘ দিন ধরে প্রকৌশল বিভাগের কার্যসহকারি হিসাবে কর্মরত) জাহাঙ্গীর আলম জানান, অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানার পর পৌরসভার মেয়র (যদিও সাবেক) তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
