আদমদীঘিতে বোরো ধান চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন

| আপডেট :  ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৫৯  | প্রকাশিত :  ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৫৯

আদমদীঘি উপজেলা প্রতিনিধি: রবিবার উপজেলার সান্তাহার সিএসডিতে (কেন্দ্রীয় সংরক্ষনাগার) অভ্যন্তরীণ বোরো ধান চাল সংগ্রহ অভিযান/২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সিএসডি ক্যাম্পাসে এক আলোচনা সভা করা হয়েছে।

আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বগুড়া-৩, আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া নির্বাচনি আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বোরো ধান, চাল সংগ্রহ এবং মনিটরিং কমিটির সভাপতি মাসুমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আদমদীঘি উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাংসদের ছোট ভাই আব্দুল মোত্তাকিন তালুকদার মুক্তা, সান্তাহার চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আলী সরদার স্বপন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশার, সান্তাহার কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগার তথা সিএসডির ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম ও দেশের সবচেয়ে বড় লোকাল সংরক্ষণাগার তথা সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মিয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন আদমদীঘি চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মোত্তাকিন তালুকদার মুক্তা। তিনি তার বক্তব্যে সরকারি ভাবে ধান ও চালের মূল্য নির্ধারণে বৈষম্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন সরকারি ভাবে এক কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। পক্ষান্তরে এক কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ টাকা। আবার চালের ক্ষেত্রে সরকারি ভ্যাট কেটে নেওয়া হবে প্রতি কেজি ৫০ পয়সা। এরপর রয়েছে মিল থেকে সরকারি গুদামে নেয়ার পরিবহন ও চাল খালাস করতে গুদামের শ্রমিক খরচ। সরকারি হিসাবে ৬০ কেজি ধানে ৩৯ কেজি চাল নেয়া হয়। সে হিসাবে এক কেজি চালের উৎপাদন মূল্য পড়ে কমপক্ষে ৫৬ টাকা। এমন অবস্থায় লাভ তো দূরের কথা লোকসান হবে প্রতি কেজিতে সাত টাকা। এরপরও মিলাররা লাইসেন্স ও বৈদ্যুতিক সংযোগ টিকিয়ে রাখতে গিয়ে চাল দিয়ে আসছেন বছরের পর বছর ধরে। এর কারণে অধিকাংশ চালকল মালিক নিম্নমানের ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের পুরোনো চাল কিনে পলিশ করে ফের সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করে। এতে করে সংরক্ষণ করা চাল অল্প সময়ে খাবার অযোগ্য হয়ে পড়ে। একারণে তিনি ধানের মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চালের মূল্য নির্ধারণ করার দাবি জানান যাতে করে মিলাররা ন্যূনতম মুনাফা পায়। সিএসডির ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে ম্যানেজার ও গুদাম কর্মকর্তাতের আবাসন ব্যবস্থা, প্রায় দেড় শত শ্রমিকের বসার স্থান, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, লাইটিং স্বল্পতা ও জঙ্গলাকীর্ণ অবস্থাসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

এসব বিষয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, আমি এসব সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব বিষয়ে খুবই আন্তরিক। সে কারণে আশা করি পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি নিএসডি শ্রমিকদের বসার স্থান সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিকভাবে জিআর খাত থেকে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেন। আলোচনা সভার পূর্বে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার সিএসডির ৬২ নম্বর গুদামে ফিতা কেটে বোরো সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশার জানান, চলতি বোরো সংগ্রহ/২০২৬ মৌসুমে কৃষক পর্যায় থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার ১৭০ মেট্রিক টন ধান ও এক শত তিনটি চালকলের মাধ্যমে ৪৯ টাকা কেজি দরে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক চাল ক্রয় করা হবে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত