আদমদীঘিতে কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এলাকা

| আপডেট :  ১৭ মে ২০২৬, ০৮:১৬  | প্রকাশিত :  ১৭ মে ২০২৬, ০৮:১৬

প্রতিনিধি, আদমদীঘি (বগুড়া): ১৬মে শনিবার দিবাগত রাতে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম। এসব গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উপজেলা সদরের মন্ডবপুর গ্রামে। মন্ডবপুর গ্রামে বসতবাড়ি, গাছপালা, ফসলসহ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার রাত ১২টার পর থেকে দফায় দফায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে এই কালবৈশাখী ঝড়। সেই সাথে ছিল গগনবিদারী শব্দের বজ্রপাত। রবিবার সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি মাটির ও সেমিপাকা বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে বসতবাড়ির ওপর পড়ে অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। এছাড়া গবাদিপশু রাখার গোয়াল ঘরের চালা উড়ে গিয়ে ও গাছপালা ভেঙে পড়ে অনেক কৃষকের ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড় ও বৃষ্টিতে উপজেলার কেশরতা, মুরাদপুর, কুসুম্বী, কদমা, করজবাড়ী, মন্ডবপুর গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বহু সংখ্যক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের চাল উড়ে গেছে। অনেক দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে সড়কে যান চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। রাত থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বিদ্যুতের মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। কয়েক ঘন্টা ধরে গগনবিদারী শব্দের বজ্রপাতের কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও প্রচন্ড ঝড়ে মাঠে পর মাঠ বোরোর পাকাধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। শাকসবজির ক্ষেত মাটিতে মিশে গেছে।

উপজেলা সদর ইউনিয়নের মন্ডবপুর গ্রামের বাসিন্দা নাছিম, আব্দুল বারী, আহম্মদ আলী, বুলু মিয়া ও তালেব আলীসহ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির মালিকরা জানান, হঠাৎ করে শনিবার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে আমাদের ঘরের টিনের চালা উড়ে যায় ও বসতবাড়ির উপর গাছপালা ভেঙে পড়ে। এতে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

একই ইউনিয়নেন কুসুম্বী গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল ফকির জানান, প্রচন্ড ঝড়ে আমার বাড়ির টিনের চালা উপড়ে গিয়ে জমিতে পড়ে যায় এবং আমার বসত ঘরের বিছানা কাঁথা বালিশ আসবাবপত্র সব ভিজে একাকার হয়ে যায়। আমি একজন দিনমজুর। এখন কিভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠবো ভেবে পাচ্ছি না। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন সরকারি ভাবে কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠবে।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বিষয়ে উপজেলার সান্তাহার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ নেসকো পিএলসির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, গভীর রাতে হঠাৎ করে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ এলাকার বহু পয়েন্টে মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। সকাল থেকে আমাদের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছে। তাছাড়া অনেক গাছপালা মেইন লাইনের উপর ও পোলের উপর ঝুলিয়ে রয়েছে এগুলো সরিয়ে নিতে একটু সময়ের প্রয়োজন।

আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার মধ্য রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার কৃষকদের পাকা বোরো ধানসহ শাকসবজির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। মাঠকর্মীদের পাঠানো হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করার জন্য।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী মাসুমা বেগম সাংবাদিকদের জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক বিষয়ের খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সে তথ্য হাতে পাওয়ার পর সরকার প্রদত্ত সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত