মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

| আপডেট :  ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৪  | প্রকাশিত :  ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৪

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি এবং উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কায় এক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ এই তিন মিত্র দেশ তাদের যৌথ নিরাপত্তা জোরদারে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ইরান ও তার মিত্ররা সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ ও বাব আল মান্দেব প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।Arabs & Middle Easterners

প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনও ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। চুক্তির শর্তানুযায়ী, তিনটি দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে বাকি সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামের এই চুক্তিতে প্রত্যেকে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার বা বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ হয়েছে বিবৃতিতে তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে বলা হয়েছে, এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করা এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি মূলত আত্মরক্ষামূলক। এটি কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। এ ছাড়া এটি বিদ্যমান কোনও দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তিকে বাতিল বা স্থলাভিষিক্ত করবে না।

সৌদিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুলআজিজ সাগের বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই চুক্তির রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। চরম অনিশ্চয়তার এই সময়ে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিনটি দেশ একত্রিত হয়েছে, যা নিরাপত্তা ইস্যুতে আঞ্চলিক ও উদীয়মান শক্তিগুলোর মধ্যে আরও নিবিড়ভাবে সমন্বয়ের আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি এই ত্রিদেশীয় কাঠামো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, তবে তা তিনটি দেশের যৌথ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’রাজনৈতিক সংবাদ

উল্লেখ্য, ন্যাটোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি রয়েছে তুরস্কের। অন্যদিকে সৌদি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক। আর পাকিস্তান হলো একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম দেশ।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত