সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ার, ভাসানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না।
পুলিশ বলছে, স্টুডিওটির জমির মালিক নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড ও এলাকার অন্য জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ ওই জমিতে একটি গেট নির্মাণ করে অন্যদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে যায়। হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
পুলিশ জানায়, নিউ গিনি প্রপার্টিজের কাছ থেকে একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে সেখানে ব্রাউনফিশ স্টুডিও তৈরি করেছিলেন সালমান মুক্তাদির। শনিবার দিবাগত রাতে দুই ট্রাকে করে একদল লোক এসে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাত পৌনে ২টার দিকে ব্রাউনফিশ স্টুডিওর ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘একটু আগে এখানে হামলা হয়েছে এবং পুরো স্টুডিও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।’
পরে তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য সম্ভবত ভবনের মালিক ছিলেন। সেখানে চাঁদা দাবি করা হয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জায়গাটি প্রায় ৩৫ কাঠার একটি বিরোধপূর্ণ জমি। এক পক্ষ নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং অন্য পক্ষ একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার। দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তার পক্ষের বেশ কিছু লোক রাতের অন্ধকারে জমিটি দখলের চেষ্টা করতে সেখানে গিয়েছিল।
এরই মধ্যে এ ঘটনায় নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের পক্ষ থেকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করা হয়েছে। ১৩ জনের নামোল্লেখসহ ১৫০-২০০ জন অজ্ঞাত আসামির নামে মামলা দায়ের করেছে প্রজেক্টের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
