নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দিল্লির শঙ্কা

রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার মার্কিন উদ্যোগ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সই করা নতুন নিষেধাজ্ঞা আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত সপ্তাহে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে একটি বিতর্কিত বিলে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া এই আইনের উদ্দেশ্য ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে যে পাঁচটি দেশ রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানি করবে বা সরবরাহ বজায় রাখবে, সেসব দেশের ওপর ৩০ দিনের মধ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবেন ট্রাম্প।
বৈঠকের পর ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মার্কিন এই নতুন আইনের বিষয়ে ভারতের স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়টি তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন। দিল্লি আগেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল যে রুশ তেল কেনার অপরাধে ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর থেকে দেশটির ছাড়কৃত অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত। এ কারণে ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরবর্তীতে ভারতের পক্ষ থেকে আমদানি কমানোর প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে মার্কিন-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হলে ভারত আবারও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়ায়।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশাল জনগোষ্ঠী ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে ছাড়কৃত দামে তেল কেনা যুদ্ধের অর্থায়ন নয়; বরং তা বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
