এআই ছবিতে নারী সেনা সদস্য সেজে প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, হাতিয়ে নিলেন ৭ লাখ টাকা

| আপডেট :  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২  | প্রকাশিত :  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ছবি তৈরি করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পরিচয় দেওয়ার পর এক ইতালি প্রবাসী তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

রোববার পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

পিবিআই জানায়, কেরানীগঞ্জের বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের ২২ বছর বয়সী ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাত খানের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় টিটুর। ‘লেডি সোলজার’ বা ‘নারী যোদ্ধা’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে শাহাদাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

পরে নারী সেনা সদস্যের পরিচয়ে নারীর মতো কণ্ঠে ফোনালাপ করে শাহাদাতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। একপর্যায়ে ওই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে শাহাদাত ও তার মায়ের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া শুরু করেন টিটু।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা নেন তিনি। পরে ভুক্তভোগী ও তার মা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

এ ঘটনায় প্রথমে শাহাদাতের মা আদালতে মামলা করেন। তদন্তের সময় পিবিআই প্রতারণার প্রাথমিক প্রমাণ পায় এবং বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তোফায়েল আলম টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ হিসাবের সিমসহ তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।

পিবিআই জানায়, টিটু নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন। শাহাদাতের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা আদানপ্রদানের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। পরে অন্য একটি যোগাযোগমাধ্যমেও নারী কণ্ঠে তার সঙ্গে কথা বলতেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

পুলিশের অপরাধ তথ্য যাচাইয়ে টিটুর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে আরও একটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত