আদমদীঘিতে হিজড়া পল্লীর মাদকের বস্তিতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় তিন গ্রামের বিক্ষুব্ধ জনতা হিজড়া পল্লি নামক পাশাপাশি দুই মাদকের বস্তিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০ থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা সদরের ডহরপুর মৌজায় আদমদীঘি ভায়া বগুড়া -ঢাকা মহাসড়কের পাশে একটি অটোমেটিক চালকলের সামনে গড়ে উঠা বস্তিতে বসবাস করা কিছুসংখ্যক হিজড়া ছাড়াও অন্য বসবাসকারীরা দীর্ঘ দিন ধরে গাঁজা, হেরোয়িন ও ইয়াবা বড়ির কারবার করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ মাদক কারবারটি সাধারণ বৈধ পণ্য কারবারের মতো রূপ ধারণ করে। দূর-দুরন্ত থেকে শুরু করে স্থানীয় কিশোর, যুবক ও বয়স্করা পর্যন্ত অবাধে এসব মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমতাবস্থায় উপজেলা সদরের পাইকপাড়া, ডালম্বা ও ডহরপুর গ্রামের বিক্ষুব্ধ জনতা হিজড়া পল্লীর মাদকের ওই বস্তি উচ্ছেদ করা হবে বলে বুধবার মাইকিং করার মাধ্যমে প্রচার করে। পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা পাশাপাশি দুই বস্তির ঘরগুলোত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ১০/১২টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় বস্তির বাসিন্দারা বিশেষ করে মাদক কারবারিরা পালিয়ে আত্মগোপন করে। এঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ওই সড়কে চলাচল করা পথচারী ও ক্ষুদ্র যানবাহনের যাত্রীদের উল্লাস করার মাধ্যমে স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। ঘটনার সময় শত শত উৎসুক জনতাকে ভিড় করতে দেখা যায় কিন্তু পুলিশসহ কোনো প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি। ঘটনার সময় স্থানীয় সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে, বিক্ষুব্ধ জনতাদের মধ্যে একদল যুবক বাধা প্রদান করে এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করা হলে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে চলে আসছে মাদকদ্রব্যের অবাধ কারবার।
এবিষয়ে মোবাইল যোগাযোগ করা হলে আদমদীঘি থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ জামিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নাই। এই প্রথম আপনার মাধ্যমে জানলাম। বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
