মিশিগানে চমক! প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর সাঈদ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আবদুল এল-সাঈদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে জয়লাভ করে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।
তীব্র উত্তেজনা ও কাদা ছোড়াছুড়ির প্রচারণায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল শিবিরের জন্য এক যুগান্তকারী বিজয় এনে দিয়েছেন এই পেশাদার চিকিৎসক।
ডেট্রয়েটে নিজের নির্বাচনী প্রচার সদর দপ্তরে বিজয়ী ভাষণে মিসরীয় অভিবাসীর সন্তান এল-সাঈদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, মিশিগান, আমরা অবশেষে করে দেখিয়েছি! মহান মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটর-ইলেক্ট হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও সম্মানিত বোধ করছি।
পাবলিক হেলথ কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও আগে কখনো কোনো নির্বাচিত পদে ছিলেন না এল-সাঈদ। আট বছর আগে মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর প্রাইমারিতে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও, এবার তিনি সেই পথ পেরিয়ে সরাসরি মার্কিন সিনেটে নিজের আসন নিশ্চিত করলেন। প্রতিনিধি পরিষদের প্রগতিশীল নেত্রী অ্যালেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজের মতো হেভিওয়েট রাজনীতিকদের পূর্ণ সমর্থনে পরিচালিত তাঁর এই প্রচার ২০২৮ সালের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বামধারার রাজনীতিকে বিশাল শক্তিমত্তা জোগাল। এটি প্রমাণ করল যে, যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ‘সুইং স্টেট’গুলোতেও প্রগতিশীল এজেন্ডা নিয়ে জয় পাওয়া পুরোপুরি সম্ভব।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে নিজ দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতর থেকেই নাটকীয় এক ধাক্কায় এসেছিলেন তিনি। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সাঈদের কাছে হেরে যাওয়া কংগ্রেসউম্যান হ্যালি স্টিভেন্স শেষ মুহূর্তে উল্টো রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন দেয়ার কথা ঘোষণা করেন।
তবে সেই প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র দূরে ঠেলে অসাধারণ এক তৃণমূল প্রচারণার মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে নেন এল-সাঈদ। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতিতে করপোরেট ও অন্যায্য অর্থের ব্যবহার বন্ধ করা এবং ইসরাইলি নীতি ও হামলার তীব্র সমালোচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
অবসরপ্রাপ্ত সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ডেমোক্র্যাটদের হাত থেকে আসনটি হাতছাড়া হতে দেননি তিনি। নির্বাচনের আগের রাতেও ভোটারদের উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, পকেটে বিশাল অঙ্কের বিলের ভয় ছাড়া চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আপনাদের রয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবির এল-সাঈদের বিরুদ্ধে চরম আক্রমণাত্মক ও পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছিল। ডেমোক্র্যাটদের ‘কমিউনিস্ট’ তকমা দেয়ার পাশাপাশি এল-সাঈদকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিত্রিত করে প্রচার চালানোর চেষ্টা করে তারা, যা মার্কিন ভোটারদের নিরাপত্তা শঙ্কায় ফেলবে বলে দাবি করা হয়েছিল।
এছাড়া ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরের বিভাজন, বিশেষ করে ডেট্রয়েটের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার ও শহরতলির ইহুদি ভোটারদের সমর্থন কতটা পাবেন, তা নিয়ে সংশয় তৈরি করা হয়েছিল।
তবে সব রকম বাধা, বিষোদ্গার ও বিপুল অঙ্কের নির্বাচনী অর্থ খরচের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ড. আবদুল এল-সাঈদ। একই সঙ্গে ১৯৬৯ সালের পর মার্কিন সিনেটে জয় পাওয়া প্রথম ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক হিসেবেও ইতিহাসে নাম লেখালেন তিনি।
তথ্যসূত্র: সিএনএন-বিবিসি-এনডিটিভি
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
