আজ ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের স্মরণে দেশজুড়ে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশন ও দূতাবাসে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিবসটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শনিবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব ব্যাংক এবং তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ঘোষণায় সব পোশাক কারখানাও আজ বন্ধ রয়েছে।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশ নেওয়া বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন ও গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। কুচক্রী মহলের বন্দিদশা থেকে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তির মধ্য দিয়ে দেশ তার সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়।
একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। অতীতে যারা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার বছর। ভবিষ্যতে কেউ যাতে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দিনটি উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রীসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য এক বিশাল র্যালির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে এই ঐতিহাসিক শোভাযাত্রাটি সমাপ্ত হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, মিলাদ মাহফিল এবং বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
সাধারণ জনগণের চলাফেরা ও যাতায়াত সহজ করতে আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী সব যানবাহনের জন্য টোল ফ্রি সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকায় সুসজ্জিত করা হয়েছে। হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা এবং শিশু পরিবারগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী শিশু পার্কগুলো শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং রেডিও-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্টজনেরাও দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেছেন। সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩, ৪ ও ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ যখন কার্যত সরকারবিহীন ছিল এবং জেনারেল জিয়াকে বন্দি রাখা হয়েছিল, তখন ৬ নভেম্বর রাতের সিপাহি-জনতার বিপ্লব সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়। সাংবাদিক মারুফ কামাল খান ও গাজীউল হাসান খান বলেন, সিপাহি-জনতার এই বিপ্লব শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে এক কঠিন সময়ে জাতির মহান কাণ্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ করেছিল এবং দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করেছিল। সার্বিক কার্যক্রমে দেশজুড়ে এক ঐতিহাসিক ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
