তুরস্কের জাতীয় নির্বাচন আজ, কাকে বেছে নেবেন তুর্কিরা

| আপডেট :  ১৪ মে ২০২৩, ১০:৪৯  | প্রকাশিত :  ১৪ মে ২০২৩, ১০:৪৯

তুরস্কের জাতীয় নির্বাচন আজ। দেশটিতে রোববার দিনভর চলবে ভোটগ্রহণ। আজ সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি তুরস্কের ভোটাররা আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের জন্য এই নির্বাচনকে অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এরই মধ্যে তুরস্কের ভোটের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে এক লাখ ৯১ হাজার ৮৮৫ ব্যালট বক্স দেশটির বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে।

আনাদুলু এজেন্সি জানিয়েছে, ছয় কোটি ৪০ লাখের বেশি তুর্কি দেশ-বিদেশ থেকে ভোট দেবেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। নির্বাচনে এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিরিচদারুগ্লু ও সিনান ওগান।

নির্বাচনে সকাল সকাল ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। জনগণের মতামত এবং ভোটেই জয় পরাজয় নির্ধারিত হয় বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

দুই দশক ধরে তুরস্ক শাসন করছেন এরদোয়ান। সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্ট-প্রধান ব্যবস্থা চালু করেছেন। কড়াহাতে বিক্ষোভ মোকাবিলা করেছেন। ইউরোপ তথা বিশ্ব যেন তুরস্ককে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয় সেই চেষ্টা করেছেন। এর আগের নির্বাচনগুলোতে কার্যত তেমন কোনো কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েননি তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্ন।

নির্বাচনের দুদিন আগে এক বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছিল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কিলিচদারুগলু। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, রাশিয়া তাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে, এমন প্রমাণ রয়েছে তার হাতে। এর একদিন পরেই পাল্টা অভিযোগ ছুড়ে দেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তার অভিযোগ, বিরোধীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হয়ে কাজ করছেন।

ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটির নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ, জল্পনা-কল্পনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাড়ে ৮ কোটি জন সংখ্যার দেশটির তরুণ প্রজন্মসহ অনেকে দেশটিতে পরিবর্তন কামনা করছেন বলে জানা গেছে।

দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি, তু্র্কি মুদ্রা লিরার দরপতন এবং জীবনযাত্রার মানের দ্রুত অবনতির বিষয় আরো জটিল হয়েছে গত ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ ভূমিকম্প। যাতে অধলক্ষাধিক মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ গৃহহীন হয়।

জনমত জরিপে কিলিচদারুগ্লু এগিয়ে থাকলেও আনাতোলীয় অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্রে বসবাসকারী শ্রমজীবী মানুষের মাঝে এরদোয়ান অত্যন্ত জনপ্রিয়। গত তিন দশক ধরে যারা এরদোয়ানের উত্থানকে প্রত্যক্ষ করেছেন তারা বলছেন যে, সামান্য ব্যবধানে জয় বা অতি অল্প ব্যবধানে পরাজয়ের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যবহার করতে পারেন।

তারা বলেন, ব্যবধান খুব কম হলে তিনি তাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন কিন্তু তা যদি বেশি হয় তাহলে তার সে সুযোগ থাকবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক কাদরি গুরসেল বলেন, এরদোগান তার সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে এবারই সবচাইতে দূর্বল অবস্থানে রয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে এরদোয়ানের সবচেয়ে দুশ্চিন্তার জায়গা হলো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি। এ নিয়েই সাধারণ মানুষ এরদোয়ানের ওপর ক্ষিপ্ত হতে পারেন। এছাড়া সম্প্রতি দেশটিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এত হতাহতের ঘটনার জন্য সরকারের তৈরি করা ভবনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।

তুরস্কের নির্বাচন কামিশন নির্বাচনী জরিপ প্রকাশ আনুষ্ঠানিক গণমাধ্যমে নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নিষিদ্ধ করলেও সামাজিক গণমাধ্যমে তা প্রকাশ হচ্ছে।

আরেদার জরিপে বলা হয়েছে, রজব তাইয়েপ এরদোয়ান ৫১.৩ শতাংশ, কেমাল কিলিচদারুগ্লু ৪৪.২ শতাংশ, সিনান ওগান ৩.৯ শতাংশ ভোট পাবেন।

অন্য দিকে ৬০০ভেকিল এর জরিপে বলা হয়েছে এরদোয়ান পাবেন ৪৭ শতাংশ, কিলিচদারুগ্লু ৪৯.৫ শতাংশ, ওগান ৩.৫ শতাংশ। ১২ মে প্রকাশ হওয়া জিইএইচএসসির জরিপে বলা হয়েছে এরদোয়ান ৪৭.৯৭, কিলিচদারুগ্লু ৪৬.৯০, ওগান ২.৭৯ শতাংশ ভোট পাবেন।

এর বাইরে বিরোধী পক্ষকে সমর্থনকারী ইউরোনিউজের জরিপে বলা হয়েছে এরদোয়ান ৪৫.৮ এবং কিলিচদারুগ্লু ৪৮.৯ শতাংশ ভোট পাবেন।

এবারের নির্বাচনে কে জয়ী হবেন, তা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে শেষমুহূর্তে পাল্লা এরদোয়ানের দিকে ঝুঁকে আছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব মিডিয়া ও সাম্প্রতিক জনমত জরিপ।

রোববার বিকেল পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আজ রাতের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল জানা যাবে।

তুরস্কের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ৫০ ভাগের বেশি ভোট না পেলে দ্বিতীয় রাউন্ডের নির্বাচন হতে হয়। এতে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জয়ী প্রার্থীই বিজয়ী ঘোষিত হন।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত