আদমদীঘিতে সারের বাফার গুদামে ময়লা-আবর্জনাসহ সার রি-ব্যাগিং, মাপে কম হওয়ার অভিযোগ

মো. হারেজুজ্জামান হারেজ, আদমদীঘি (বগুড়া): উপজেলার সান্তাহারে অবস্থিত বিসিআইসি (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) ও বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) এর সারের বাফার স্টক (স্থানীয় ভাবে কেডিসি নামে পরিচিত) গুদামে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ছেঁড়া-ফাটা বস্তার সার গুদামের মেঝেতে ঢেলে ময়লা- আবর্জনাসহ রি-ব্যাগিং করা, সংরক্ষণ ও সরবরাহ পদ্ধতি সঠিক না হবার কারণে সারের বস্তা জমাট বাধা ও গুদাম থেকে সরবরাহ করা রি-ব্যাগিং করা সারের বস্তার ওজনে কম হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেখভাল করার দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে একটি অসাধু অংশ আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ থাকলেও এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় কি না সেটা জানা যায় না। ফলে দায়িত্ব পালনকারিদের নজরদারির ফাঁক ফোঁকরের সুযোগ নিয়ে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সার রি-ব্যাগিং কাজ চলছে। এতে করে সারের বাফার স্টক গুদামে কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এর মধ্যে সারের সান্তাহার বাফার স্টক গুদামের বিসিআইসি সেকশনের সাবেক ইনচার্জ নবীর উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকের ১৫৩ কোটি টাকার সার আত্মসাৎ করা সংক্রান্ত মামলার ঘটনা এখনো স্থানীয়দের মধ্যে বেশ আলোচিত ঘটনা।
জানা গেছে, উপজেলার সান্তাহারে অবস্থিত ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের বাফার স্টক গুদামে বিএডিসি ও বিসিআইসির সার সংরক্ষণ এবং বিতরণ করা হয়। এখান থেকে আদমদীঘি ও দুপচাচিয়া উপজেলা ছাড়াও পাশের নওগাঁ ও জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলার ডিলারগণ সার উত্তোলন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ছেঁড়া-ফাটা বস্তার সার রি-ব্যাগিং করার সময় সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। ত্রিপল বিছিয়ে নেটিং করার পরিবর্তে মেঝেতে ঢেলে অদক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে ময়লা আবর্জনা সহকারে রি-ব্যাগিং করতে দেখা যায়। যা সার সংরক্ষন ও বিতরণ নীতিমালা লংঘন ও দন্ডনীয় অপরাধ হলেও যেন দেখার কেউ নেই। পক্ষান্তরে এসব সার নিয়ে বিপাকে পড়েন ডিলাররা।
নিয়মানুসারে, ছেঁড়া-ফাটা বস্তার সার রি-ব্যাগিংয়ের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা বলা আছে। আরো বলা আছে উপযুক্ত প্লাস্টিক বা ত্রিপল শিট বিছিয়ে তার ওপর সার রেখে নেটিং করে সঠিক ওজন দিয়ে রি-ব্যাগিং করতে হবে। কিন্তু সান্তাহার বাফার সার গুদামে এসব নিয়ম যথাযথ ভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিঙ্গ মহলের দাবি সার গুদামের মেঝের স্যাঁতসেঁতে ভাবের সংস্পর্শে থাকলে জমাট বাঁধা কিংবা গুণগত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তনের আশঙ্কা থাকে। আবার পুর্বের খামালের সমস্ত বস্তা সরবরাহ না করে কয়েক স্তর রেখে দিয়ে ফের সারের বস্তা খামাল দেওয়ার ফলে দ্রুত জমাট বাধে।
মোট কথা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করলে কৃষক পর্যায়ে নিম্নমানের সার পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এদিকে গুদাম থেকে সরবরাহ করা সারের ওজন নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। নির্ধারিত ৫০ কেজি ওজনের বস্তায় মাঝে মাঝে ওজনে কম সার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ডিলাররা।
তারা বলেন, ওজনে ঘাটতি থাকা সার সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় বলে মনে হয় না। হলে তো এসব ঘটনা পুনঃরায় ঘটত না। এতে করে সরবরাহকারী গুদাম সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বাফার স্টক গুদামের একাধিক শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, ফাঁটা- ছেঁড়া বস্তার সার ময়লাযুক্ত মেঝেতে ঢেলে বেলচা ও ঝাড়ু দিয়ে সংগ্রহ করে বস্তায় ভরা হয়। এ প্রক্রিয়া সঠিক কি না এ বিষয়টি তাদের জানা নেই বলে জানান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সান্তাহার বাফার স্টক গুদামের বিসিআইসি সেকশনের ইনচার্জ হাসানুর রহমান হাসান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, মেঝেতে সার ঢেলে রিব্যাগিং করাসহ অন্য অভিযোগের তথ্যগুলো এখানকার নয়। আর সার ওজনে কম দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
