সান্তাহারে যানবাহন থেকে অবৈধ টোল আদায়ের অভিযোগে পৌর কর্মচারীসহ গ্রেফতার ২

| আপডেট :  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১  | প্রকাশিত :  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: উপজেলার সান্তাহার পৌরসভা শহরের রেলগেইট এলাকায় পৌরসভার অনুমতি ছাড়া অবৈধ ভাবে অটো ভ্যান, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের ভুয়া লাইসেন্স প্লেট দিয়ে টোল আদায় করার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুইজন হলো অটোভ্যান, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের টোল আদায় কারী রবিউল ইসলাম (২৫)। সে শহর সংলগ্ন পৌঁওতা গ্রামের বড়টিকরি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে এবং টোল আদায়ের হুকুম দাতা সান্তাহার পৌরসভার কর্মচারী আলম হোসেন (৫৬) শহরের কলসা হলুদ ঘর এলাকার মৃত আসতুল সরদারের ছেলে এবং পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আ’লীগের সহ-সভাপতি। তাদের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, (১৭ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার বিকেলে সান্তাহার পাশের নওগাঁ জেলার শৈলগাছী থেকে ফারুক সরদার নিজস্ব অটো ভ্যানে করে স্বস্ত্রীক সান্তাহারে বড় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। তিনি সান্তাহার রেলগেইট এলাকা অতিক্রম করার সময়, টোল আদায় কারী রবিউল ভ্যানটি আটক করে। ওই ভ্যান চালক ও মালিক ফারুক হোসেনকে বলে আপনার ভ্যান সান্তাহার পৌরসভার লাইসেন্স ভুক্ত নয় তাই আপনাকে লাইসেন্স বাবদ ৬৫০ টাকা দিতে হবে নয়তো ভ্যান ছেড়ে দেওয়া হবেনা। তখন তিনি অনেক কাকুতি মিনতি করেও ভ্যানটি ছাড়াতে না পেরে জামাইকে ফোনে ডেকে নেয়। জামাই সান্তাহার শহরের ব্যবসায়ী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বেলাল হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে অল্প কিছু টাকা নিয়ে তার শ্বশুরের ভ্যানটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু আদায়কারী রবিউল কোনো ক্রমেই রাজি না হলে তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন, সাধারণ শ্রমিক, শ্রমিক দল ও যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে ভ্যানটি ছেড়ে নেয়। তারপর টোল আদায়কারী রবিউলকে সন্ধ্যার পর তার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কাগজ পত্রসহ আদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাথে নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিজস্ব অফিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলে। সন্ধ্যার পরে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের সান্তাহারস্থ নিজস্ব কার্যালয়ে তাঁর উপস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত হয়ে লাইসেন্স প্লেট, লাইসেন্স বুকসহ বিভিন্ন কাগজ পত্র যাচাই-বাছাই ও সাক্ষ্য প্রমাণে পৌর সভার অনুমতি ছাড়া ভুয়া প্লেটের মাধ্যমে লাইসেন্স দিয়ে মোটা অংকের টোল আদায় করার সত্যতা পাওয়া যায়। ফলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উল্লিখিত দুইজনকে আটক করে আদমদীঘি থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সান্তাহার পৌরসভার প্রশাসক জনাব মাসুমা বেগম এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে পৌরসভার কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। পৌরসভার নামে টোল আদায়ের সাথে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, টোল আদায়কারী রবিউল ইসলাম এবং হুকুম দাতা সান্তাহার পৌরসভার কর্মচারী আলম হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে শুক্রবার দুপুরে বগুড়ার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত