বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান

| আপডেট :  ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮  | প্রকাশিত :  ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মহারণ হিসেবে পরিচিত ভারত ও পাকিস্তানের লড়াই নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক চরম অনিশ্চয়তা। আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশ নিতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলেও একটি বড় শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে, তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না। মূলত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইসলামাবাদ।

গত ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই বিশ্বকাপের কৌশল ও অংশগ্রহণ বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ম্যাচ বয়কটের কথা জানানো হলো।

মূলত এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটেছিল আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নিরাপত্তা শঙ্কার অজুহাত দেখিয়ে বিসিসিআই মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও আইসিসি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি যা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) মেনে নিতে পারেনি।

শুরু থেকেই আইসিসির এই একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল পাকিস্তান। পিসিবির মতে বাংলাদেশের মতো একটি পূর্ণ সদস্য দেশকে বাদ দিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা ক্রিকেটের স্পিরিটের পরিপন্থী। সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এবং ভারতের একচেটিয়া প্রভাবের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিতেই এবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর ফলে বিশ্বকাপের সূচি এবং সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে আইসিসি এখন চরম সংকটের মুখে পড়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে টুর্নামেন্টের ব্যবসায়িক ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে বড় ধরণের ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত