মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে তেল-গ্যাসের দামে আগুন

| আপডেট :  ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৮  | প্রকাশিত :  ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৮

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে গ্যাসক্ষেত্র লক্ষ্য করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্রতর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। এর প্রেক্ষিতে গ্যাস ও তেলের দামে আবারও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।

বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

ইউরোপে গ্যাসের দামও তীব্রভাবে বেড়েছে। ডাচ পাইকারি গ্যাসের মূল্য ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মেগাওয়াট-ঘণ্টাপ্রতি ৬৮ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ।

যুক্তরাজ্যে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা গৃহস্থালির বিল বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে যুক্তরাজ্যের পাইকারি গ্যাসের দাম ২৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্ম ১৭২ পেন্সে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাজারে এ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণ জোরদার করেছে ইরান। তাদের পাল্টা আঘাতে বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনা রাস লাফান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফান স্থাপনায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি কাতারএনার্জি। বৃহস্পতিবার ভোরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সেখানে ‘বড় আকারের অগ্নিকাণ্ড’ এবং একাধিক এলএনজি স্থাপনায় গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। পরে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সব আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

জ্বালানি কোম্পানি শেল জানিয়েছে, রাস লাফানে হামলায় তাদের পার্ল জিটিএল (গ্যাস-টু-লিকুইডস) স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আবুধাবির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানি হামলার কারণে তাদের হাবশান গ্যাস স্থাপনা এবং বাব তেলক্ষেত্রে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানাহ স্ট্রিটার বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায়

দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি ধাক্কার আশঙ্কা আবার সামনে এসেছে। উভয় পক্ষই জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়াচ্ছে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, এমন সতর্কবার্তা আবার শোনা যাচ্ছে। এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং উচ্চ জ্বালানি দামের প্রভাব বিশ্বজুড়ে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।’

সূত্র: গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত