বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ, যা বলছে নির্বাচন কমিশন

| আপডেট :  ০১ মে ২০২৬, ০৮:৩০  | প্রকাশিত :  ০১ মে ২০২৬, ০৮:৩০

ভোট গণনার আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএম কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই বিতর্কের মধ্যেই রাতে ইভিএম স্ট্রংরুমে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কারচুপির অভিযোগ নাকচ করে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, সব স্ট্রংরুম সিল করা হয়েছে এবং কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, তৃণমূল কংগ্রেসের ইভিএম কারচুপির অভিযোগের জবাবে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) নির্বাচনী সামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের ভেতরে থাকা সাতটি স্ট্রংরুম ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর যথাযথভাবে বন্ধ করে সিল করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ভোরের দিকে সম্পন্ন হয় এবং সেখানে শেষ স্ট্রংরুমটি ভোর প্রায় ৫টা ১৫ মিনিটে সুরক্ষিত করা হয়।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিরাপদ রাখতে এই সিল করার কাজ প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট এবং সাধারণ পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশন আরও জানায়, মূল ইভিএম সংরক্ষণের বাইরে একই স্থাপনায় পোস্টাল ব্যালট রাখার জন্য আলাদা একটি স্ট্রংরুম করা হয়েছে। সেখানে ভোটকেন্দ্রের কর্মীদের দেয়া ব্যালট এবং ইলেকট্রনিকালি ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম (ইটিবিপিএস)-এর মাধ্যমে পাওয়া ব্যালটগুলো রাখা হয়েছে।

এসব ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ বিকেল ৪টা থেকে স্ট্রংরুম এলাকার করিডোরে শুরু হয়, যা আগে থেকেই সব পর্যবেক্ষক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা বজায় রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ইমেইলের মাধ্যমে সব প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

আজ স্ট্রংরুমগুলোর তালাবদ্ধ ও সুরক্ষিত অবস্থাও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সামনে প্রদর্শন করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছিলেন শশী পাঁজা, কুণাল ঘোষ এবং বিজেপির প্রতিনিধিরা। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ভোটসংক্রান্ত সব সামগ্রী কঠোর নজরদারির মধ্যে নিরাপদে রাখা হয়েছে এবং গণনা শুরুর আগ পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে।

এর আগে আগামী ৪ মে ভোট গণনাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। তৃণমূল কংগ্রেস একটি ভিডিও প্রকাশ করে গুরুতর নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তোলে এবং বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করে।

এক্সে দেয়া পোস্টে টিএমসি দাবি করে, সংশ্লিষ্ট দলের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে ব্যালট বক্স খোলা হয়েছে বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, এটি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় যোগসাজশে সংঘটিত বড় ধরনের নির্বাচনী জালিয়াতি।

আর এই ইভিএম কারচুপির অভিযোগকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন। তিনি রাতেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাই স্কুলে অবস্থিত ইভিএম স্ট্রংরুমে পৌঁছেছেন।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে কি সত্যিই ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে যাচ্ছে, নাকি আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— এই প্রশ্ন ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন এক্সিট পোল সামনে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক চিত্র। সেখানে বিজেপিকে এগিয়ে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ‘টুডেজ চাণক্য’ পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, আসাম ও কেরালার গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে তাদের বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। তাদের বিশ্লেষণে বিজেপির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আর এটিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ১৯২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)+ জোটের আসন কমে দাঁড়াতে পারে ১০০ ± ১১-এ, ভোটের হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। এতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন। এক্সিট পোলগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস থাকলেও বেশিরভাগ জরিপে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পিপলস পালস ও জনমত— এই দুটি সংস্থা মমতার দল জয় পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

পিপলস পালসের হিসাবে মমতার টিএমসি ১৭৭-১৮৭ আসন, বিজেপি ৯৫-১১০, বামফ্রন্ট ০-১ এবং কংগ্রেস ১-৩ আসন। অন্যদিকে জনমতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, টিএমসি ১৯৫-২০৫, বিজেপি জোট ৮০-৯০ এবং কংগ্রেস ১-৩ আসন পেতে পারে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত