পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা: তৃণমূল কংগ্রেসের বহু কার্যালয়ে হামলা-আগুন

| আপডেট :  ০৫ মে ২০২৬, ০৪:১৬  | প্রকাশিত :  ০৫ মে ২০২৬, ০৪:১৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই সহিংসতার অভিযোগ তুলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দলটির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এতে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বলছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় জয়ের পর সোমবার (৪ মে) রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরের পর থেকে কলকাতার টালিগঞ্জ ও কসবা, শহরতলির বারুইপুর, কামারহাটি, বরানগর এবং জেলার হাওড়া ও বহরমপুরে তৃণমূলের কার্যালয়গুলোতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, এই সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে। তবে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এতে তাদের দলের কোনও কর্মী জড়িত নয়; বরং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তৃণমূলের ভেতরের গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হতাশা থেকেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

টালিগঞ্জের বিজয়গড়-নেতাজীনগর এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর ঘটনা দেখা গেছে। সেখানে কিছু লোককে ভাঙা সাইনবোর্ডে লাথি মারতেও দেখা যায়। রুবি ক্রসিং এলাকায় তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের কার্যালয়েও বিজেপির পতাকা হাতে থাকা একটি দল ভাঙচুর চালায়।

এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তৃণমূল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, ‘ক্ষমতায় এসেই বিজেপি তাদের আসল রূপ দেখিয়েছে’। তারা আরও অভিযোগ করে, ‘মুর্শিদাবাদে আমাদের পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলাই বিজেপির আসল চেহারা। এটি তাদের নোংরা রাজনীতির পরিচয়।’

হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে তাদের প্রার্থী সমীর পাঁজাকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তৃণমূল। দলটি বলেছে, ‘এটি গণতন্ত্র নয়, নিছক গুন্ডামি’। এছাড়া উত্তর কলকাতার মানিকতলায় তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে এক মধ্যবয়সী নেতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। তার দাবি, ওই ব্যক্তি তার নির্বাচনী এজেন্ট এবং ভোটগণনার পর বিজেপি কর্মীরা তাকে মারধর করেছে।

এই আসনে তিনি বিজেপির তাপস রায়ের কাছে ১৫ হাজার ৬৪৪ ভোটে হেরে যান।

এছাড়া তৃণমূল সামাজিক মাধ্যমে আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে শিলিগুড়িতে তাদের একটি কার্যালয়ে আগুন দেয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

পানিহাটি আসনে আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ-খুন মামলার ভুক্তভোগীর মা রত্না দেবনাথ তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষকে ২৮ হাজার ৮৩৬ ভোটে হারিয়েছেন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের একটি কার্যালয় রাতারাতি দখল হয়ে গেছে।

নোয়াপাড়া আসনের তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং ব্যারাকপুরের রাজব চক্রবর্তী ভোটগণনা কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় তাদের বের করে আনা হয়।

বিজেপির রাহুল সিনহা সহিংসতার নিন্দা জানালেও বলেন, ‘২০২১ সালের মতো পরিস্থিতি এবার হয়নি। সেসময় ভোটগণনার পর তৃণমূল আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং একাধিক কার্যালয়ে আগুন দেয়া হয়েছিল, অথচ রাজ্য পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’

তিনি দাবি করেন, এবার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত