হেফাজতের সমাবেশে যাওয়া আদমদীঘির সেকেন্দার আলী ১৩ বছর ধরে নিখোঁজ

| আপডেট :  ১০ মে ২০২৬, ০৭:৪৪  | প্রকাশিত :  ১০ মে ২০২৬, ০৭:৪৪

প্রতিনিধি, আদমদীঘি (বগুড়া): ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে যাওয়ার পর দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সেকেন্দার আলী ফকির।

তার স্ত্রী জীবন নেছা, ছেলে জিল্লুর রহমানসহ পরিবারের লোকজন এখনো অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তাদের প্রিয় অভিভাবক ফেরার আশায়।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে , ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হেফাজত ইসলামের সমাবেশে যোগ দিতে বাড়ি থেকে রওনা দেয় উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের কাতলা গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিন ফকিরের ছেলে সেকেন্দার আলী ফকির। ওই দিন বিকেলে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামীর হাজারো নেতা ও কর্মি সমর্থরা অবস্থান নিয়ে সমাবেশ শুরু করে।

সমাবেশটি পন্ড করতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমাবেশের চারিদিকে ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে সমাবেশ আগত হেফাজতের নেতা ও কর্মীদের ছত্রভঙ্গ ও সমাবেশ পন্ড করতে রাত সোয়া ২টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে আইন শৃংখলা বাহিনী জলকামান, টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও সাউন্ড গ্রেনেড প্রয়োগ করে। এতে করে ছত্রভঙ্গ হয়ে সমাবেশ স্থল ছাড়তে বাধ্য হয়। সে ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অনেক নেতা ও কর্মী সমর্থক হতাহতের দাবি করা হয় হেফাজতে ইসলামীর পক্ষে। তবে কতজন হতাহত হয়েছেন তা নিয়ে এখনও বির্তক রয়েছে।

এদিকে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের কাতলা গ্রামের সেকেন্দার আলী ফকির দীর্ঘ ১৩ বছরেও বাড়ীতে ফিরে আসেনি। তার স্ত্রী ও ছেলেসহ পরিবারের লোকজন আজও জানে না সে বেঁচে আছে না কি ওই সমাবেশে নিহত হয়েছে। ফলে তারা শোকাহত দিন যাপন করছেন।

সরেজমিন নিখোঁজ সেকেন্দার আলী ফকিরের স্ত্রী জীবন নেছা বলেন, তার স্বামী একজন পরহেজগারী ছিলেন। হেফাজত ইসলামের সমাবেশ যাওয়ার পর অদ্যবদি পর্যন্ত বাড়ী ফিরেনি। আজও তার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছি।

সেকেন্দার আলী ফকিরের ছেলে এনামুল হক জিল্লুর জানান, তার বাবা ঢাকার মতিঝিলে আয়োজিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য ২০১৩ সালের ৩ মে নিজ বাড়ী থেকে বের হন। এরপর প্রথমে তিনি বগুড়ার
নন্দিগ্রাম উপজেলার নিমাইদীঘির পীর মাওলানা ইব্রাহিম খন্দকারের সাথে দেখা করে দোয়া নিয়ে ওই রাতেই ঢাকায় চলে যান।

এরপর ৫ মে বিকেলে তিনি বাড়ীতে ফোন করে জানায় সমাবেশে হট্রগোল ও হামলা হচ্ছে। আমি যদি মারা যাই তোমরা তাহলে দোয়া করো। তার কিছু পর থেকে আব্বার ফোন বন্ধ পাই। ঘটনার দুই দিন পর ঢাকায় গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত