পবিপ্রবির প্রো-ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ

| আপডেট :  ১৭ মে ২০২৬, ০৪:১৪  | প্রকাশিত :  ১৭ মে ২০২৬, ০৪:১৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থেকে তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, চুরি, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের দায়ে চাকরিচ্যুত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পুনর্বহাল করা হয়। এ তালিকায় শাকিল, শাহাদাত হোসেন নান্টু ও মাসুদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ইউনুছ শরীফকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া, অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বরখাস্ত কয়েকজন শিক্ষককে পুনর্বহাল এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিএনপিপন্থি সিনিয়র শিক্ষকদের বঞ্চিত করে নিজ বিভাগের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নতুন ভিসি প্রফেসর কাজী রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ১৫০ কোটি টাকার টেন্ডারে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সামনে আসে। ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, নির্মাণকাজে অনিয়ম, সাব-স্টেশন ও ভিসি বাসভবনের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সরকারি গাড়ির অপব্যবহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি ব্যবহার, শ্বশুরবাড়ির পুকুর খননে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রমিক নিয়োগ এবং একাধিক বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিজের কাছে রেখে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসে মব সৃষ্টির মাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা এবং রেজিস্ট্রারের কক্ষে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাতেও প্রো-ভিসির প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বলা হয়েছে, পিএইচডিবিহীন ও অযোগ্য প্রার্থীদের অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে চাকরিতে পুনর্বহাল হওয়া কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন নান্টু মিয়া, মাসুদসহ অন্যদের দাবি, সাবেক সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ এনে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আবেদন করার পর বিধি মোতাবেক তাদের পুনর্বহাল করা হয়েছে।

তবে অভিযোগকারীদের একজন দাবি করেন, কোনো চাকরিচ্যুত ব্যক্তি আদালতের আদেশ ছাড়া পুনর্বহাল হওয়ার সুযোগ নেই। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি ও রিপোর্ট সম্পন্ন করে রাতারাতি যোগদান করানো হয়েছে, যা ছিল সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।

অভিযোগের বিষয়ে প্রফেসর ড. এসএম হেমায়েত জাহান হজ্জ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত