যেভাবে বিশ্বকাপ জিততে পারে আর্জেন্টিনা, পথে দেখা হবে রোনালদোর সঙ্গেও

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে হলে লিওনেল স্কালোনির দলকে পাড়ি দিতে হবে কঠিন এক পথ। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারের সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, শিরোপা জিততে গেলে নকআউট পর্বে উরুগুয়ে, তুরস্ক, পর্তুগাল, স্পেন এবং ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে পারে আলবিসেলেস্তেরা।
সহজ গ্রুপ, তবে সতর্ক আর্জেন্টিনা
২০২৬ বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে আর্জেন্টিনার সঙ্গী হয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। কাগজে-কলমে এই গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে ওঠা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়।
অপটার ১০ হাজার সিমুলেশনের তথ্য বলছে, আর্জেন্টিনার শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ৯৬.৯ শতাংশ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনাও ৭২.৬ শতাংশ।
তবে সাম্প্রতিক ইতিহাস আর্জেন্টিনাকে কিছুটা সতর্ক করছে। সর্বশেষ চার বিশ্বকাপের তিন আসরেই শিরোপাধারী দল গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে; ইতালি (২০১০), স্পেন (২০১৪) এবং জার্মানি (২০১৮)। যদিও ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
শেষ ৩২-এ প্রতিপক্ষ হতে পারে উরুগুয়ে
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে উরুগুয়ে। দুই দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তির এই লড়াই নিঃসন্দেহে কঠিন হবে। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। উরুগুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ নয় ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে আর্জেন্টিনা। এছাড়া দুই দলের শেষ আট দেখায় সাতবারই গোল করতে পারেনি উরুগুয়ে।
শেষ ষোলোতে তুরস্ক?
অপটার হিসাব অনুযায়ী, শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ তুরস্ক। মজার বিষয় হলো, পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত কখনও মুখোমুখি হয়নি আর্জেন্টিনা ও তুরস্ক। ফলে এটি হতে পারে দুই দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক লড়াই।
তুরস্ক শক্ত প্রতিপক্ষ হলেও আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট হিসেবেই দেখছে সুপারকম্পিউটার।
কোয়ার্টার ফাইনালে মেসি-রোনালদো মহারণ!
বিশ্ব ফুটবল ভক্তদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে কোয়ার্টার ফাইনালে। অপটার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শেষ আটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে পর্তুগাল। আর সেটি হলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
দুই কিংবদন্তির আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগের দুই সাক্ষাতেই ছিল নাটকীয়তা। ২০১১ সালে মেসির শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। আর ২০১৪ সালের প্রীতি ম্যাচে দুজনই প্রথমার্ধ খেলে মাঠ ছাড়েন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কখনও দেখা হয়নি আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের। যদি এই ম্যাচ হয়, তবে সেটি হতে পারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত লড়াই।
সেমিফাইনালে অপেক্ষায় ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন
কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোতে পারলে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে আসতে পারে স্পেন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছে অপটা। তাদের সিমুলেশনে স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১৬.৫ শতাংশ, যা সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার রেকর্ডও ঈর্ষণীয়। ১৯৩০, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২২; এই পাঁচবারই সেমিফাইনাল খেলে ফাইনালে উঠেছে তারা।
ফাইনালে আবারও ফ্রান্স?
সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে পারে ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। অপটার সম্ভাব্য হিসাব বলছে, ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে ফ্রান্স। যদি সেটি হয়, তাহলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই আসরের ফাইনালে একই দুই দল মুখোমুখি হবে।
কাতারের রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবারও যদি সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দুই আসরে অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি জয়ী প্রথম ফুটবলার হয়ে নতুন ইতিহাস গড়বেন।
অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাবে বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় ফ্রান্স (১২.৮ শতাংশ) সামান্য এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনা (১০.৪ শতাংশ) রয়েছে খুব কাছাকাছি।
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
