কী আছে ইসরায়েল-লেবানন চুক্তিতে?

| আপডেট :  ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৫১  | প্রকাশিত :  ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৫১

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১৪ দফার একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভাষ্য, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমিত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
চুক্তিতে কী রয়েছে?

চুক্তির ১৪ দফায় ইসরায়েল ও লেবানন একে অপরের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার স্বীকার করেছে।

পাশাপাশি নিরাপদ ও সার্বভৌম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে একসঙ্গে বসবাসের অঙ্গীকার করেছে।
দুই দেশ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।

একই সঙ্গে বন্দিদের মুক্তি এবং নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে আত্মরক্ষার অধিকার থেকে কোনো দেশই বঞ্চিত হবে না।

চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী ধাপে ধাপে পুরো দেশের ওপর কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তবে তার আগে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।

এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে আরব দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে লেবানন। পাশাপাশি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি সামরিক সমন্বয়কারী দল গঠন করা হবে।

এখনো যেসব বিষয় অনিশ্চিত

শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি। ফলে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তারা যোদ্ধা সরিয়ে নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সীমান্তে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কমেছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই চুক্তিকে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা দখল করে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষামূলকভাবে লেবাননের সেনাবাহিনীকে দুটি এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর একটি লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং অন্যটি উত্তরে।

সূত্র: বিবিসি

 

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত