‘শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ব’, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি কিউবার

| আপডেট :  ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৫  | প্রকাশিত :  ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৫

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, কিউবা যুদ্ধ চায় না, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনও ভয়ও পায় না।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কিউবার জনগণ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘কিউবা আমাদের পথে আসছে’ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দিয়াজ-কানেল বলেন, ওয়াশিংটন তার দেশের বিরুদ্ধে ‘গণমাধ্যমনির্ভর বিভ্রান্তি ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল’ চালাচ্ছে।

তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে ‘নিন্দনীয়’, ‘কিউবার জনগণের মর্যাদার প্রতি অপমান’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না। তাই সে ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যদি হামলা হয়, তাহলে কিউবার জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু আমরা যুদ্ধকে ভয়ও পাই না।’

দিয়াজ-কানেল কিউবার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে উনিশ শতকের সামরিক নেতা আন্তোনিও মাসেওর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যে কিউবা দখল করতে চাইবে, সে রক্তে ভেজা এই মাটির ধুলা ছাড়া আর কিছুই নিতে পারবে না।’

কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং কোটি কিউবান মানুষের বিশ্বাস। তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সময় ৩২ জন কিউবান প্রাণ দিয়েছিলেন। কিউবায় প্রয়োজনে এ সংখ্যা ‘কোটি’ ছাড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে দিয়াজ-কানেল চীনা বা রুশ সামরিক ঘাঁটি কিউবায় রয়েছে— এমন অভিযোগও নাকচ করেন। তিনি বলেন, ‘কিউবায় কোনও চীনা সামরিক ঘাঁটি নেই।’

দীর্ঘদিনের মার্কিন অবরোধকে তিনি ‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ’ বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, এ অবরোধের কারণেই কিউবায় দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট, ওষুধের ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে জ্বালানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ‘অপরাধ’ এবং ‘গণহত্যার’ শামিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের রাজনৈতিক বন্দি ও দমন-পীড়নের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন দিয়াজ-কানেল।

তিনি বলেন, কিউবায় কোনও রাজনৈতিক বন্দি নেই। যারা কারাগারে আছেন, তারা সরকারবিরোধী মত প্রকাশের জন্য নয়, বরং দেশের ফৌজদারি আইনে বর্ণিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

সব চাপের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের দরজা খোলা রয়েছে বলে জানান কিউবার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই, আমাদের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসতে প্রস্তুত।’

দিয়াজ-কানেল বলেন, নানা সংকট থাকলেও শেষ পর্যন্ত কিউবার ভবিষ্যৎ হবে ‘সমৃদ্ধি ও বিজয়ের’।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত