আদমদীঘিতে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি আছে, নাই দৃশ্যমান কার্যক্রম (ভিডিওসহ)

মোঃ হারেজুজ্জামান হারেজ, আদমদীঘি (বগুড়া): কৃষি বিভাগের কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত রয়েছে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। একই ভাবে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলায়ও রয়েছে ১২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। আবার কোন দেশের সীমান্তবর্তী উপজেলার ক্ষেত্রে বিজিবিসহ কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৩। মাঠ পর্যায়ে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি বিশেষ করে কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা কৃষি অফিসার কর্তৃক মনিটরিং করার দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম দেখা যায় না। এর ফলে কৃষকদের জন্য সরকারের দেওয়া কোটি কোটি টাকার ভর্তুকির সার নিয়ে ডিলাররা অবাধে চালিয়ে আসছেন নয়ছয় কারবার।
বিশেষ করে নয়ছয় কারবার করা হয় নন-ইউরিয়া সার নিয়ে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, অনুমোদন ছাড়াই এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে বিক্রি, আশ পাশের উপজেলায় পাচার করা হয় হরহামেশাই। বিষয়টি সচেতন গনমাধ্যম কর্মীদের চোখে পড়লেও পড়ে না মনিটরিং কমিটির সদস্যদের চোখে। এই উপজেলার সার কখন কোথায় যায় আবার কোথা থেকে আসে, কি পরিমাণে আসে আর কি পরিমাণ যায় সেটা মনিটরিং করা হয় বলে মনে হয় না। তবে অন্য উপজেলা থেকে সার এসেছে এমন খবর জানতে পারলে বেজায় খুশি হয় উপজেলা কৃষি অফিসারগন। কিন্তু নিজ উপজেলা থেকে কোন কোন ডিলার কত পরিমাণ সার উচ্চ দামে বিক্রি করে অন্য উপজেলায় পাচার করে দেয় সে খোঁজ রাখেন বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না।
একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সার ও বীজ এবং খাদ্য শস্য সংগ্রহ কমিটিসহ উপজেলার সব সরকারি দপ্তর ও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। এছাড়াও সরকারের প্রাত্যহিক নানা কার্যক্রম নিয়ে অতিব্যস্ত থাকেন। ফলে তাঁকে নির্ভর করতে হয় প্রতিটি দপ্তর প্রধানের ওপর। এই সুযোগ কাজে লাগায় দপ্তর প্রধানরা। বিশেষ করে কৃষি ও খাদ্য দপ্তর। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই দুই দপ্তরের মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ব্যস্ততার কারণে সদস্য সচিবরা তাঁর অগোচরে চালিয়ে থাকেন নয়ছয় কারবার আর লুকোচুরির খেলা। সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির বিশেষ করে সাবেক ও বর্তমান সদস্য সচিবের মনিটরিংয়ে সারের কোন অবৈধ মজুত, এ্যারাইভাল না দিয়েই এক স্থানের সার অন্য স্থানে খুচরা ডিলারের কাছে চড়া দামে বিক্রি, অনুমোদন ছাড়া এক স্থানের সার অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া ও অনুমোদন ছাড়া কীটনাশকের দোকানে সার বিক্রি এবং অন্যত্র পাচারের ঘটনা উদঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার কোন নজির আছে বলে জানা যায় না। গত ৩/৪ বছরে অর্ধডজনেরও বেশি এমন সব ঘটনাগুলো স্থানীয় ১/২ জন গনমাধ্যম কর্মি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ইউনিট ও সবশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের নির্দেশনায় ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এসএম জুয়েল রানার নেতৃত্বে ও জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উপজেলার নসরতপুরে চোখে পড়ার মত পরিমাণ সারের মজুত উদঘাটন করার ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার ২৯ ডিলারের মধ্যে কে কোথায় কি পরিমাণ সার খালাস করে, সরেজমিন সঠিক মজুত কত সেই আপডেট হিসাবের তথ্যও বলতে পারেন না উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা কৃষি অফিসার। গ্রামজনপদ ছাড়াও খোদ উপজেলা সদরের ডিলার ও খুচরা ডিলাররা নিরিহ কৃষকের নিকট বেশি দামে অবাধে নন-ইউরিয়া বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছেন কিন্তু সাবেক ও বর্তমান কৃষি অফিসারের ঠোঁটস্থ জবাব “বেশি দামে সার বিক্রি ও পাচার করার কোন সুযোগ নাই”। তবে সার নীতিমালা ২০০৯ এর কিছু কিছু অস্পষ্টতার সুযোগ ডিলাররা নিয়ে থাকেন বলে মন্তব্য করেন।
এবিষয়ে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগ ও ডিলারদের চালানো ওই সব অগ্রহনযোগ্য অসঙ্গতিপুর্ণ কারবারের বিবরণ জানতে পেরে বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, এমন অবস্থা আর চলতে দেওয়া যাবে না। এমপি আব্দুল মহিত তালুকদার মহোদয়ের সহযোগিতায় অতিতের চেয়ে অনেক বেশি মনিটরিং কাজ শুরু করা হয়েছে। সার নীতিমালা ২০২৬ বাস্তবায়ন শুরু হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এতে করে ডিলারদের চালানো নানা অসঙ্গতি ও বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃষকের পকেটকাটা বন্ধ হয়ে যাবে।
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন:
আরও পড়ুন
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত
