দিল্লিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভকারী-পুলিশের দফায় দফায় সং/ঘ/র্ষ

| আপডেট :  ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩০  | প্রকাশিত :  ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩০

 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে বুধবার রাতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন করে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে ওই এলাকায় ইন্টারনেট জ্যামারও চালু করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী স্লোগান দিচ্ছেন এবং একে অপরকে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালাতে উৎসাহিত করছেন।

পুলিশের প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, অন্তত একজন নিরাপত্তা সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধরও করা হয়। একই ভিডিওতে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে এবং অন্যদের থামতে অনুরোধ জানাতে দেখা যায়। তবে তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

পরে আহত দুই এসিপি বিবেক ভগত ও জয় প্রকাশকে দ্রুত রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসিপি বিবেক ভগতের শরীরের ওপরের ও নিচের অংশ এবং কাঁধে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার মাথার পেছনের অংশ ফুলে গেছে।

আহত এসিপি জয় প্রকাশ সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার কিছু বিক্ষোভকারী পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ‘আমি যন্তর মন্তরের কাছে বিক্ষোভস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলাম। আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিতে থাকে এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। তাদের একটি অংশ পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা ব্যারিকেড বসিয়ে, মানবশৃঙ্খল গড়ে এবং তাদের বোঝানোর মাধ্যমে থামানোর চেষ্টা করি। কিন্তু হঠাৎ তাদের কয়েকজন প্লাস্টিকের পানির বোতল ও পাথর ছুড়তে শুরু করে।’

তিনি জানান, একটি পাথর তার কপালে আঘাত করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এতে আমার সামান্য ফ্র্যাকচার হয়েছে।

গত সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রায় পুলিশের অভিযানের পর থেকেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরপর থেকে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে একাধিক সহিংস সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষেরই অনেকে আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আন্দোলনকারীদের মারধরের কয়েকটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তারা সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে এবং কেবল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব সংঘর্ষে তাদের ১০০ জনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত