আদমদীঘিতে মুচলেকা নিয়ে খুলে দেওয়া হলো সিলগালা করা সেই সার গুদাম

| আপডেট :  ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯  | প্রকাশিত :  ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: আদমদীঘিতে ডিলার কর্তৃক সরকারি নন-ইউরিয়া সার বিপণনে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সিলগালা করার মাস না পেরুতেই সেই সার ডিলারের গুদাম/ খুলে দিতে বাধ্য হলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুর্বল আইন কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বিএডিসির বীজ ও সার ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের ভাড়া গুদাম/দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চলতি আগস্ট মাসের সারও বরাদ্দ দিয়েছেন।

ইতঃপূর্বে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগে ওই সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা রাজনৈতিক চাপের কারণে লাইসেন্স পুনর্বহাল করেন।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাসেম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এম.এ কাশেম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা হওয়ার পরও কীভাবে সিলগালাকৃত সার গুদাম খুলে নিলেন সে বিষয় নিয়ে এলাকা জুড়ে চলছে নানান আলোচনা ও সমালোচনা। একাধিকবার অনিয়ম করার পরও তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো : না, এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে অন্য সব সার ডিলারসহ স্থানীয় জনমনে।

জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই সকালে উপজেলা সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের এক কৃষক শতাধিক বস্তা নন-ইউরিয়া সার বোঝাই দুটি ভুটভুটি উপজেলা সদরে আসতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। চালকদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানতে পারেন যে, সারগুলো উপজেলার কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ইহাট এলাকার এসাইনকৃত বিএডিসির ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের দোকান থেকে উপজেলা সদরের মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্স-এ নেওয়া হচ্ছিল।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রবিউল ইসলামকে জানানো হয়। এসময় তিনি সারগুলো অন্য উপজেলার বলে দাবি করে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। পরে ডিলার এম. এ. কাসেম সারগুলোর মালিকানা স্বীকার করে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। অনিয়মের মাধ্যমে ওই সারগুলোর ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সের মালিক রওশন আলীর ছেলে সোহরাব হোসেন; পাচারের সারগুলো আদমদীঘি পাশের নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার থেকে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন; কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তিনি এ দাবির পক্ষে ক্রয় রশিদ ও কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সার বিপণন নীতিমালা অনুসারে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনে, ডিলার-টু-ডিলার স্থানান্তরের আইন অনুসরণ না করেই সারগুলো সরানো এবং খুচরা সার ব্যবসায়ীর গুদামে নেয়ার জন্য পরিবহন করা হচ্ছির।

এ বিষয়ে বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলাররা ওই ঘটনাটিকে সার চোরাকারবারি বলে দাবি করেন। ঘটনার পরদিন ১৯ জুলাই আইন অমান্য করার ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম। এ সময় বিএডিসির ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং তার দোকান/গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়। এঘটনার পর থেকে ওই ডিলার তার প্রতিনিধির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ছাড়াও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে তদবির শুরু করেন, কিন্তু সিলগালাকৃত দোকান/গুদাম খুলে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যায়। সে সময়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। অবশেষে ঘটনার ২৫ দিন পর প্রভাবশালী মহলের চাপে গত ১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার সকালে সিলগালাকৃত সার দোকান/গুদাম খুলে দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিএডিসির বীজ ও সার ডিলার এমএ কাশেম সাংবাদিকদের জানান, আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী খুলে নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের সারের বরাদ্দ পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, আগামী শুক্রবার থেকে তার ওই দোকান/গুদাম থেকে সার বিক্রি করা হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মুসলেকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেওয়া হয়েছে। সার নিয়ে ডিলার ও সাব-ডিলার কর্তৃক বারবার অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হবার পরও রেহাই পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়ে থাকি। আর তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে আমার কিছুই করার থাকে না।

আরও পড়ুন


  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত